পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৪১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সমস্যা চিত্রগুপ্তের কোনে-একটা হিসাবের ভূলে হঠাৎ তারা স্বরাজের স্বর্গে গেলেও তাদের টেকি-লীলার শাস্তি হবে না ; সুতরাং পরপদপীড়নের তালে তালে তারা মাথা কুটে মরবে, কেবল মাঝে মাঝে পদযুগলের পরিবর্তন হবে— এইমাত্র প্রভেদ। যন্ত্রচালিত বড়ো বড়ো কারখানায় মানুষকে পীড়িত ক’রে যন্ত্রবৎ করে ব’লে আমরা আজকাল সর্বদাই তাকে ੱਿ করে থাকি । এই উপায়ে পশ্চিমের সত্যতাকে গাল পাড়ছি জেনে মনে বিশেষ সাস্বনা পাই। কারখানায় মামুষের এমন পঙ্গুতা কেন ঘটে ? যেহেতু সেখানে তার বুদ্ধিকে ইচ্ছাকে কর্মকে একটা বিশেষ সংকীর্ণ ছাচে ঢালা হয়, তার পূর্ণ বিকাশ হতে পারে না। কিন্তু লোহা দিয়ে গড়া কলের কারখানাই একমাত্র কারখানা নয়। বিচারহীন বিধান লোহার চেয়ে শক্ত, কলের চেয়ে সংকীর্ণ। যে বিপুল ব্যবস্থাতন্ত্র অতি নিষ্ঠুর শাসনের বিভীষিকা সর্বদা উদ্যত রেখে বহু যুগ ধরে বহু কোটি নরনারীকে যুক্তিহীন ও যুক্তিবিরুদ্ধ আচারের পুনরাবৃত্তি করতে নিয়ত প্রবৃত্ত রেখেছে সেই দেশজোড়া মানুষ-পেষ। জাতকিল কি কল হিসাবে কারও চেয়ে খাটো ? বুদ্ধির স্বাধীনতাকে অশ্রদ্ধা ক’রে এত বড়ো স্বসম্পূর্ণ সুবিস্তীর্ণ চিত্তশূন্ত বজ্ৰকঠোর বিধিনিষেধের কারখানা মামুষের রাজ্যে আর কোনো দিন আর কোথাও উদ্ভাবিত হয়েছে ব’লে আমি তো জানি নে। চটকল থেকে যে পাটের বস্তা তৈরি হয়ে বেরোয়, জড়ভাবে বোঝা গ্রহণ করবার জন্তেই তার ব্যবহার। মানুষ-পেষা কল থেকে ছাটাকাটা ষে-সব অতি-ভালোমানুষ পদার্থের উৎপত্তি হয় তারাও কেবল বাহিরের বোঝা বইতেই আছে। একটা বোঝা খালাস হতেই আর-একটা বোঝা তাদের অধিকার ক'রে বসে । প্রাচীন ভারত এক দিন যখন বিধাতার কাছে বর চেয়েছিলেন তখন বলেছিলেন, স নো বুদ্ধ শুভয় সংযুনত্ত , ব এক অৰণঃ— যিনি এক, ඇඈ එ