পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৪৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালাস্তুর মুসলমানের তরফে ঠিক এর উণ্টে । ধর্মগওঁীর বহির্বর্তী পরকে সে খুব তীব্রভাবেই পর বলে জানে ; কিন্তু সেই পরকে, সেই কাফেরকে বরাবরকার মতো ঘরে টেনে এনে আটক করতে পারলেই সে খুশি । এদের শাস্ত্রে কোনো একটা খুটে-বের-করা শ্লোক কী বলে সেটা কাজের কথা নয়, কিন্তু লোক-ব্যবহারে এদের এক পক্ষ শত শত বৎসর ধ’রে ধর্মকে আপন ছৰ্গম দুর্গ ক’রে পরকে দূরে ঠেকিয়ে আত্মগত হয়ে আছে, আর অপর পক্ষ ধর্মকে আপন বৃহ বানিয়ে পরকে আক্রমণ করে তাকে ছিনিয়ে এনেছে। এতে ক'রে এদের মনঃপ্রকৃতি ছুইরকম ছাদের ভেদবুদ্ধিতে একেবারে পাকা হয়ে গেছে। বিধির বিধানে এমন ছুই দল ভারতবর্ষে পাশাপাশি দাড়িয়ে প্রধান স্থান অধিকার ক’রে নিয়েছে — আত্মীয়তার দিক থেকে মুসলমান হিন্দুকে চায় না, তাকে কাফের বলে ঠেকিয়ে রাখে ; আত্মীয়তার দিক থেকে হিন্দুও মুসলমানকে চায় না, তাকে স্লেচ্ছ ব'লে ঠেকিয়ে রাখে । একটা জায়গায় দুই পক্ষ ক্ষণে ক্ষণে মেলবার চেষ্টা করে, সে হচ্ছে তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে। শিবঠাকুরের ছড়াটা যদি আজ সম্পূর্ণ পাওয়া যেত তা হলে দেখা যেত, ঐ-যে প্রথম কম্ভাটি রাখেন বাড়েন অথচ খেতে পান না, আর সেই-ষে তৃতীয়া কস্তাটি না পেয়ে বাপের বাড়ি যান, এদের উভয়ের মধ্যে একটা সন্ধি ছিল— সে হচ্ছে ঐ মধ্যম কন্যাটির বিরুদ্ধে। কিন্তু যে দিন মধ্যম কস্তা বাপের বাড়ি চলে যেত সে দিন অবশিষ্ট দুই সতিন, এই দুই পোলিটিকাল allyদের মধ্যে চুলোচুলি বেগে উঠত। পদ্মায় ঝড়ের সময়ে দেখেছি কাক ফিঙে উভয়েই চরের মাটির উপর চঞ্চু আটকাবার চেষ্টায় একেবারে গায়ে গায়ে হয়ে পাখা কটুপটু করেছে। তাদের এই সাযুজ্য দেখে তাড়াতাড়ি মুগ্ধ হবার দরকার নেই। ঝড়ের সময় যত ক্ষণ এদের সন্ধি স্থায়ী হয়েছে তার চেয়ে বহুদীর্ঘকাল এরা পরস্পরকে ঠোকর মেরে &Oly.