পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৪৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সমস্তা এসেছে । ৰাংলাদেশে স্বদেশী-আন্দোলনে ছিন্দুর সঙ্গে মুসলমান মেলে নি। কেননা, বাংলার অখণ্ড অঙ্গকে ব্যঙ্গ করার দুঃখটা তাদের কাছে বাস্তৰ ছিল না। আজ অসহকার-আন্দোলনে হিন্দুর সঙ্গে মুসলমান যোগ দিয়েছে, তার কারণ রুম-সাম্রাজ্যের অথও অঙ্গকে ব্যঙ্গীকরণের দুঃখটা তাদের কাছে বাস্তব। এমনতরো মিলনের উপলক্ষটা কখনোই চিরস্থায়ী হতে পারে না। আমরা সত্যতঃ মিলি নি ; আমরা এক দল পূর্বমুখ হয়ে, অন্ত দল পশ্চিমমুখ হয়ে কিছু ক্ষণ পাশাপাশি পাখা ঝাপটেছি। আজ সেই পাখার ঝাপট বন্ধ হল, এখন উভয় পক্ষের চঞ্চু এক মাটি কামড়ে না থেকে পরস্পরের অভিমুখে সবেগে বিক্ষিপ্ত হচ্ছে । রাষ্ট্রনৈতিক অধিনেতারা চিন্তা করছেন, আবার কী দিয়ে এদের চঞ্চুম্বটোকে ভুলিয়ে রাখা যায়। আসল ভুলটা রয়েছে অস্থিতে মজ্জাতে, তাকে ভোলাবার চেষ্টা ক’রে ভাঙা বাবে না । কম্বল চাপা দিয়ে যে মনে ভাবে, বরকটাকে গরম ক’রে তোলা গেল, সে এক দিন দেখতে পায়, তাতে ক’রে তার শৈত্যটাকে স্থায়ী করা গেছে । হিন্দুতে মুসলমানে কেৰল ষে এই ধৰ্মগত ভেদ তা নয়, তাদের উভয়ের মধ্যে একটা সামাজিক শক্তির অসমকক্ষতা ঘটেছে । মুসলমানের ধৰ্মসমাজের চিরাগত নিয়মের জোরেই তার আপনার মধ্যে একটা নিবিড় ঐক্য জমে উঠেছে, আর ছিন্দুর ধর্মসমাজের সনাতন অনুশাসনের প্রভাবেই তার আপনার মধ্যে একটা প্রৰল অনৈক্য ব্যাপ্ত হয়ে পড়েছে। এর ফল এই যে, কোনো বিশেষ প্রয়োজন না থাকলেও হিন্দু নিজেকেই মারে, আর প্রয়োজন থাকলেও ছিন্দু অন্তকে মারতে পারে না। আর মুসলমান কোনো বিশেষ প্রয়োজন না ঘটলেও নিজেকে দৃঢ় ভাবে রক্ষা করে, আর প্রয়োজন ঘটলে অন্তকে বেদম মার দিতে পারে । তার কারণ এ নয়, মুসলমানের গায়ে জোয় আছে, হিন্দুর নেই ; তার আসল কারণ, তাদের সমাজের জোর আছে, ছিন্দুর নেই। এক দল আভ্যন্তরিক ఇ93