পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সমাধান বেশ ভালো রকম ক’রে চাষ করা অত্যাবশুক হয়ে ওঠে। সকল বড়েf সভ্যতারই অন্নরূপের আশ্রয় হচ্ছে কৃষিক্ষেত্র । কিন্তু সভ্যতার একটা বুদ্ধিরূপ আছে, সে তো অল্পের চেয়ে বড়ো বই ছোটো নয়। ব্যাপকভাবে সর্বসাধারণের মনের ক্ষেত্র কর্ষণ করে বিচিত্র ও বিস্তীর্ণ -ভাবে বুদ্ধিকে ফলিয়ে তুলতে পারলে, তবেই সে সত্যত মনস্বী হয়। কিন্তু যেখানে অধিকাংশ লোক মৃঢ়তায় আবিষ্ট হয়ে অন্ধ সংস্কারের নানা বি ভীষিকায় সর্বদা ত্রস্ত হয়ে_শুরু পুরোহিত গণৎকারের দরজায় অহরহ ছুটোছুটি ক'রে মরছে সেখানে এমন কোনো সর্বজনীন স্বাধীনতামূলক রাষ্ট্রক বা সামাজিক ব্যবস্থাতন্ত্র ঘটতেই পারে না যার সাহায্যে অধিকাংশ মানুষ নিজের অধিকাংশ ভাষ্য প্রাপ্য পেতে পারে । আজকালকার দিনে আমরা সেই রাষ্ট্রনীতিকেই শ্রেষ্ঠ বলি যার ভিতর দিয়ে সর্বজনের স্বাধীন বুদ্ধি, স্বাধীন শক্তি, নিজেকে প্রকাশ করবার উপায় পায়। কোনো দেশেই আজ পর্যন্ত তার সম্পূর্ণ আদর্শ দেখি নি। কিন্তু আধুনিক যুরোপে আমেরিকায় এই আদর্শের অভিমুখে প্রয়াস দেখতে পাই। এই প্রয়াস কখন থেকে পাশ্চাত্যদেশে বললাভ করেছে ? যখন থেকে সেখানে জ্ঞান ও শক্তি -সাধনার বৈজ্ঞানিক দৃষ্টি বহুল পরিমাণে সর্বসাধারণের মধ্যে ব্যাপ্ত হয়েছে। যখন থেকে সংসারযাত্রার ক্ষেত্রে মামুষ নিজের বুদ্ধিকে স্বীকার করতে সাহস করেছে তখন থেকেই জনসাধারণ রাজা গুরু জড় প্রথা ও অন্ধসংস্কার -গত শাস্ত্রবিধির বিষম চাপ কাটিয়ে উঠে মুক্তির সর্বপ্রকার বাধা আপন বুদ্ধির যোগে দূর করতে চেষ্টা করেছে। অন্ধ বাধ্যতা দ্বারা চালিত হবার চিরাভ্যাস নিয়ে মুক্তির বিপুল দায়িত্ব কোনো জাতি কখনো ভালো করে বুঝতেই পারবে না, বহন করা তো দূরের কথা । হঠাৎ এক সময়ে যাকে তারা অলৌকিক শক্তিসম্পন্ন ব’লে বিশ্বাস করে, তার বাণীকে দৈববাণী ব’লে জেনে তারা ক্ষণকালের জন্তে একটা দুঃসাধ্য সাধনও করতে পারে, অর্থাৎ যে আত্মশক্তি তাদের নিজের

8 ግ