পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৫৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালাস্তুর মধ্যে থাকা উচিত ছিল সেইটাকে বাইরে কোথাও খাড়া করে কোনোএক সময়ে কোনো-একটা কাজ তারা মরিয়া হয়ে চালিয়ে নিতে পারে। নিত্য ব্যবহারের জন্তে যে আগুন জালাবার কাজটা তাদের নিজের বুদ্ধির হাতেই থাকা উচিত ছিল কোনো-এক দিন সেই কাজটা কোনো অগ্নিগিরির আকস্মিক উচ্ছাসের সহায়তায় তারা সাধন ক’রে নিতে পারে। কিন্তু কচিৎ-বিন্দুরিত অগ্নিগিরির উপরেই যাদের ঘরের আলো জালাবার ভার, নিজেদের বুদ্ধিশক্তির উপর নয়, মুক্তির নিত্যোৎসবে তাদের প্রদীপ জলবে না, এ বিষয়ে সন্দেহমাত্র নেই। অতএব যে শিক্ষার চর্চায় তারা আগুন নিজে জালাতে পারে, নিজে জালানো অসাধ্য নয় এই ভরসা লাভ করতে পারে, সেই শিক্ষা পাওয়াই ঘরের অন্ধকার দূর হওয়ার একমাত্র সম্বপায়। এমন লোককে জানা আছে যে মানুষ জন্ম-বেকার, মজ্জাগত অবসাদে কাজে তার গা লাগে না । পৈত্রিক সম্পত্তি তার পক্ষে পরম বিপত্তি, তাও প্রায় উজাড় হয়ে এল। অর্থ না হলে তার চলে না, কিন্তু উপার্জনের দ্বারা অর্থসঞ্চয়ের পথ এত দীর্ঘ, এত বন্ধুর যে, সে পথের সামনে বসে বসে পথটাকে হ্রস্ব করবার দৈব উপায় -চিস্তায় আধ-বোজ চোখে সর্বদা নিযুক্ত ; তাতে কেবল তার চিন্তাই বেড়ে চলেছে, পথ কমছে না । এমন সময় সন্ন্যাসী এসে বললে, "তিন মাসের মধ্যেই সহজ উপায়ে তোমাকে লক্ষপতি ক’রে দিতে পারি।” এক মুহূর্তে তার জড়তা ছুটে গেল । সেই তিনটে মাস সন্ন্যাসীর কথামতে সে দুঃসাধ্য সাধন করতে লাগল। এই জড়পদার্থের মধ্যে সহসা এতটা প্রচুর উত্তম দেখে সকলেই সন্ন্যাসীর অলৌকিক শক্তিতে বিস্থিত হয়ে গেল। কেউ বুঝলে না, এটা সন্ন্যাসীর শক্তির লক্ষণ নয়, ঐ মানুষটারই অশক্তির লক্ষণ। আত্মশক্তির পথে চলতে যে বুদ্ধি, যে অধ্যবসায়ের প্রয়োজন, যে মানুষের তা নেই তাকে অলৌকিক শক্তি পথের আভাস দেব মাত্রই ፪8b”