পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৫৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সমাধান সে তার জড়শয্যা থেকে লাফ দিয়ে ওঠে। তা না হলে আমাদের দেশে এত তাগাতাবিজ বিক্রি হবে কেন ? যারা রোগতাপ বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা পাবার বুদ্ধিসংগত উপায়ের পরে মানসক জড়ত্ব-বশত আস্থা রাখে না, তাগাতাবিজ স্বস্ত্যয়ন তন্ত্রমন্ত্র মানতে তার প্রভূত ত্যাগ এবং অজস্র সময় ও চেষ্টা ব্যয় করতে কুষ্ঠিত হয় না । এ কথা ভুলে যায় যে, এই তাগাতাৰিজ-গ্ৰস্তদেরই রোগতাপ-বিপদ-আপদের অবসান দেবতা বা অপদেবতা কারও কৃপাতেই ঘটে না, এই তাগাতাবিজ-গ্ৰন্তদেরই ঘরে অকল্যাণের উৎস শতধারায় চিরদিন উৎসারিত । যে দেশে বসস্তরোগের কারণটা লোকে বুদ্ধির দ্বারা জেনেছে এবং লে কারণটা বুদ্ধির দ্বারা নিবারণ করেছে, সে দেশে বসন্ত মারীরূপ ত্যাগ ক’রে দৌড় মেরেছে । আর যে দেশের মানুষ মা-শীতলাকে বসস্তের কারণ ব’লে ঠিক ক’রে চোখ বুজে বসে থাকে সে দেশে মা-শীতল ও থেকে যান, বসন্তও যাবার নাম করে না । সেখানে মা-শীতলা হচ্ছেন মানসিক পরবশতার একটি প্রতীক, বুদ্ধির স্বরাজচু্যতির কদর্য লক্ষণ । আমার কথার একটা মস্ত জৰাব আছে । সে হচ্ছে এই যে, দেশের এক দল লোক তো বিদ্যাশিক্ষা করেছে। তারা তো পরীক্ষা পাস করবার বেলায় জাগতিক নিয়মের নিত্যতা অমোঘত সম্বন্ধে ব্যাকরণবিশুদ্ধ ইংরেজি ভাষায় সাক্ষ্য দিয়ে ডিগ্রি নিয়ে আসে । কিন্তু আমাদের দেশে এই ডিগ্রিধাস্ত্রীদেরই ব্যবহারে কি আত্মবুদ্ধির পরে, বিশ্ববিধির পরে বিশ্বাস সপ্রমাণ হচ্ছে ? তারাও কি বুদ্ধির অন্ধতায় সংসারে সকল রকমেরই দৈন্ত বিস্তার করে না ? স্বীকার করতেই হয়, তাদের অনেকের মধ্যেই বুদ্ধিমুক্তির জোর বড়ো বেশি দেখতে পাই নে ; তারাও উচ্চুম্বলভাবে যা-তা মেনে 酸8>