পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শূদ্রধর্ম পাকা ক'রে দিয়ে। রাজশাসনে যদি পাকা করা হ’ত তা হলে তার মধ্যে দাসত্বের অবমাননা থাকত এবং ভিতরে ভিতরে বিদ্রোহের চেষ্টা কখনোই থামত না । পাকা হল ধর্মের শাসনে। বলা হল, এক-একটা জাতির এক-একটা কাজ তার ধর্মেরই অঙ্গ । ধর্ম আমাদের কাছে ত্যাগ দাবি করে । সেই ত্যাগে আমাদের দৈন্ত নয়, আমাদের গৌরব । ধৰ্ম আমাদের দেশে ব্রাহ্মণ শূদ্র সকলকেই কিছু না কিছু ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছে। ব্রাহ্মণকে ৪ অনেক ভোগবিলাস ও প্রলোভন পরিত্যাগ করবার উপদেশ দেওয়া হয়েছিল । কিন্তু, তার সঙ্গে ব্রাহ্মণ প্রচুর সন্মান পেয়েছিল। ন পেলে সমাজে সে নিজের কাজ করতেই পারত না । শূদ্রও যথেষ্ট ত্যাগ স্বীকার করেছে, কিন্তু সমাদর পায় নি। তবুও, সে কিছু পাক আর না পাক, ধর্মের খাতিরে হীনতা স্বীকার করার মধ্যেও তার একট। আত্মপ্রসাদ আছে । বস্তুত জীবিকানির্বাহকে ধর্মের শ্রেণীতে ভূক্ত করা তখনি চলে যখন নিজের প্রয়োজনের উপরেও সমাজের প্রয়োজন লক্ষ্য থাকে । ব্ৰাহ্মণ ভাতে-ভাত খেয়ে, বাহ দৈন্ত স্বীকার করে নিয়ে, সমাজের আধ্যাত্মিক আদর্শকে সমাজের মধ্যে বিশুদ্ধ যদি রাখে তবে তার দ্বারা তার জীবিকানিৰ্বাহ হলেও সেটা জীবিকানির্বাহের চেয়ে বড়ো, সেটা বৰ্ম । চাবী যদি চাষ না করে, তবে এক দিনও সমাজ টেকে না । অতএব চাষী আপন জীবিকাকে যদি ধর্ম ব’লে স্বীকার করে, তৰে কথাটাকে মিথ্যা বলা যায় না। অথচ এমন মিথ্যা সাৰনা তাকে কেউ দেয় নি যে, চাষ করার কাজ ব্ৰাহ্মণের কাজের সঙ্গে সন্মানে সমান । যে-সব কাজে মামুষের উচ্চতর বৃত্তি খাটে, মানবসমাজে স্বভাবতই তার সন্মান শারীরিক কাজের চেয়ে বেশি, এ কথা সুস্পষ্ট । যে দেশে জীৰিকা-অৰ্জনকে ধর্মকর্মের সামিল করে দেখে না, সে দেশেও নিম্নশ্রেণীর কাজ বন্ধ হলে সমাজের সর্বনাশ ঘটে। অতএব も● ●