পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৬৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শূদ্রধর্ম জন্তেই স্বভাবতই উপনয়নপ্রথা এখন প্রহসন হয়ে দাড়িয়েছে। তার কারণ, উপনয়ন যে আদর্শের বাহন ও চিহ্ন সেই আদর্শ ই গেছে সরে । ক্ষত্রিয়েরও সেই দশা ; কোথায় যে সে তাকে খুজে পাওয়া শক্ত । যারা ক্ষত্ৰিয়বর্ণ ব’লে পরিচিত, জাতকর্ম বিবাহ প্রভৃতি অনুষ্ঠানের সময়েই তারা ক্ষত্রিয়ের কতকগুলি পুরাতন আচার পালন করে মাত্র। এ দিকে শাস্ত্রে বলছেন : স্বধর্মে নিধনং শ্রেয়ঃ পরধর্মে ভয়াবহ: | এ কথাটার প্রচলিত অর্থ এই দাড়িয়েছে যে, যে বর্ণের শাস্ত্রবিহিত যে ধর্ম তাকে তাই পালন করতে হবে । এ কথা বললেই তার তাৎপর্য এই দাড়ায় যে, ধর্ম-অমুশাসনের যে অংশটুকু অন্ধভাবে পালন করা চলে তাই প্রাণপণে পালন করতে হবে— তার কোনো প্রয়োজন থাক আর নাই থাক, তাতে অকারণে মামুষের স্বাধীনতার খর্বতা ঘটে ঘটুক, তার ক্ষতি হয় হোক। অন্ধ আচারের অত্যাচার অত্যন্ত বেশি, তার কাছে ভালোমনার আস্তরিক মূল্যবোধ নেই। তাই যে শুচিবায়ুগ্ৰস্ত মেয়ে কথায় কথায় স্নান করতে ছোটে, সে নিজের চেয়ে অনেক ভালো লোককে বাহ শুচিতার ওজনে ঘৃণাভাজন মনে করতে দ্বিধ বোধ করে না । বস্তুত তার পক্ষে অস্তিরিক সাধনার কঠিনতর প্রয়াস অনাবশ্যক । এইজন্যে অহংকার ও অন্তের প্রতি অবজ্ঞায় তার চিত্তের অশুচিতা ঘটে । এই কারণে আধুনিক কালে যার বুদ্ধিবিচার জলাঞ্জলি দিয়ে সমাজকর্তাদের মতে স্বধৰ্ম পালন করে তাদের ঔদ্ধত্য এতই ছুঃসহ, অথচ এত নিরর্থক । অথচ জাতিগত স্বধৰ্ম পালন করা খুবই সহজ, যেখানে সেই স্বধর্মের মধ্যে চিত্তবৃত্তির স্থান নেই । বংশ মুক্রমে হাড়ি তৈরি করা বা ঘানির থেকে তেল বের করা বা উচ্চতর বর্ণের দাস্তবৃত্তি করা কঠিন নয় , বরং তাতে মন যতই মরে যায় কাজ ততই সহজ হয়ে আসে। এই-সকল হাতের কাজেরও নূতনতর উৎকর্ষ সাধন করতে গেলে চিত্ত চাই । ૨& G.