পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৬৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর ঘাটে দাড়িয়ে কেঁদে মরত, ‘ওরে পালোয়ান, কুল যদি বা একই হয়, ঘাট যে নানা— কোনোটা উত্তরে, কোনটা দক্ষিণে ।’ শাস্ত্রে বলেন, ঈশ্বরের শক্তি বহুধা । তাই স্বষ্টিব্যাপারে পাচ ভূতে মিলে কাজ করে। মৃত্যুতেই বিচিত্র ভূত দৌড় মারে ; প্রলয়ে সব একাকার । মানুষকে ঈশ্বর সেই বহুধা শক্তি দিয়েছেন, তাই মানবসভ্যতার এত ঐশ্বর্য । বিধাতা চান মানবসমাজে সেই বহুকে গেথে গেথে স্থষ্টি হবে ঐক্যের ; বিশেষফললুব্ধ শাসনকর্তার চান, সেই বহুকে দ’লে ফেলে পিণ্ড পাকানো হবে সাম্যের । তাই সংসারে এত অসংখ্য এক কলের মজুর, এক-উদি-পরা সেপাই, এক দলের দড়িতে বাধা কলের পুতুল । যেখানেই মানুষের মনুষ্যত্ব জুড়িয়ে হিম হয়ে যায় নি সেখানেই এই হামানদিস্তায়-কোটা সমীকরণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ চলছেই। কোথাও যদি সেই বিদ্রোহের লক্ষণ না থাকে, যদি দেখি সেখানে হয় প্রভুর চাবুকে নয় গুরুর অনুশাসনে মানুষকে অনায়াসেই একই ধূলিশয়নে অতি ভালোমানুষের মতো নিশ্চল শায়িত রাখতে পারে, তা হলে সেই দৃষ্টিহীন নাড়ীক্ষীণ হিমকলেবর দেশের জন্যে শোকের দিন এসেছে বলেই জানব । আমাদের দেশে অনেক দিন থেকেই সমীকরণের অলক্ষণ বলবান । এই মরণের ধর্মই আমাদের দেশে প্রত্যেক জাতের প্রত্যেক মানুষের 'পরেই এক-একটি বিশেষ কাজের বরাত দিয়েছে । সঙ্গে সঙ্গে কানে এই মন্ত্র যে, স্বষ্টির প্রথম দরবারে তাদের আদিপুরুষ একটিমাত্র বিশেষ মজুরির বায়না নিয়ে তাদের চিরকালকে বাধা দিয়ে বসে আছে । সুতরাং কাজে ইস্তফা দিতে গেলেই সেটা হবে অধৰ্ম । এই রকমে পিপড়ে-সমাজের নকলে খুচরো কাজ চালাবার খুব সুবিধে, কিন্তু মানুষ হবার বিশেষ বাধা । যে মানুষ কর্তা, যে স্বষ্টি করে, এতে তার মন যায় মারা ; যে মানুষ দাস, যে মজুরি করে, তারই দেহের নৈপুণ্য পাকা হয়। তাই বহুকাল থেকে ভারতবর্ষে কেবলই পুরাতনের পুনরাবৃত্তি। এবং সেই পুনরাবৃত্তির জাত৷ ہ وفاج