পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৬৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চরকা চালিয়ে চালিয়েই অস্তিত্বের প্রতি ভারতের এত বিতৃষ্ণ । তাই সে জন্মজন্মান্তরের পুনরাবর্তন-কল্পনায় আতঙ্কিত হয়ে সকল কর্ম ও কর্মের মূল মেরে দেবার জন্যে চিত্তবৃত্তি নিরোধ করবার কথা ভাবছে। এই পুনরাবৃত্তির বিভীষিকা সে আপন প্রতি দিনের অভ্যাস-জড় কর্মচক্রের ঘুরপাকের মধ্যেই দেখেছে। লোকসান শুধু এইটুকু নয়, এমনি করে যারা কল বনে গেল তারা বীর্য হারালো, কোনো আপদকে ঠেকাবার শক্তিই তাদের রইল না। যুগ যুগ ধরে চতুর তাদের ঠকাচ্ছে, গুরু তাদের ভোলাচ্ছে, প্রবল তাদের কানমলা দিচ্ছে । তারা এর কোনো অন্যথা কল্পনা মাত্র করতে পারে না, কারণ তারা জানে মেরে রেখেছেন বিধাতা ; স্বষ্টির আদিকালে চতুর্মুখ তাদের চাকায় দম দিয়ে বসে আছেন, সে দম স্বষ্টির শেষকাল পর্যস্ত ফুরোবে না। একঘেয়ে কাজের জীবনমৃত্যুর ভেলার মধ্যে কালস্রোতে তাদের ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে । কিন্তু সনাতন শাস্ত্র যাই বলুন-না, স্বষ্টির গোড়ায় ব্রহ্মা মানুষকে নিয়ে যে কাও করেছিলেন এর সঙ্গে তার সম্পূর্ণই তফাত । মানুষের খোলের মধ্যে ঘূর্ণিচাকার মোটর-কল না বসিয়ে মন বলে অত্যন্ত ছটফটে একটা পদার্থ ছেড়ে দিয়েছিলেন । সেই বালাইটাকে বিদায় করতে না পারলে মানুষকে কল করে তোলা দুঃসাধ্য । ঐহিক বা পারত্রিক ভয়ে বা লোভে বা মোহমন্ত্রে এই মনটাকে আধমরা করে তবে কর্তারা এক দলের কাছে কেবলই আদায় করছেন তাতের কাপড়, আর-এক দলের কাছে কেবলই ঘানির তেল ; এক দল কেবলই জোগাচ্ছে তাদের ফরমাশের হাড়ি, আর-এক দল বানাচ্ছে লাঙলের ফাল । তার পরে যদি দরকার হয় মকুম্বোচিত কোনো বড়ো কাজে তাদের মন পেতে তারা ব’লে বসে, ‘মন ? সেটা আবার কোন আপদ হুকুম করো-না কেন ? মন্ত্র আওড়াও । গাছ বসিয়ে বেড়া তৈরি করতে গেলে সব গাছকেই সমান খাটো করে ছাটতে হয়। তেমনি করে আমাদের এই ছাটা মনের মুল্লুকে মানুষের RఆS