পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৭১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চরকা প্রকাশিত হয়ে সাহিত্যে, গানে, নানা কারুকলায় সমাজকে সমৃদ্ধিশালী করেছিল। তারা মানুষকে দিয়েছিলেন আলো, দিয়েছিলেন জাগরণ ; অর্থাৎ তাকে দিয়েছিলেন তার আপন আত্মারই উপলব্ধি— তাতেই সব দেওয়া পূর্ণ হয় । আজ সমস্ত দেশ জুড়ে আমাদের যদি দৈন্ত এসে থাকে, তা হলে জানা চাই, তার মূল আছে আমাদের ভিতরের দিকে। সেই মূল দুৰ্গতির একটিমাত্র বাহ লক্ষণ বেছে নিয়ে দেশমৃদ্ধ সকলে মিলে তার উপরে একটিমাত্র বাহ্যিক প্রক্রিয়া নিয়ে পড়লে শনিগ্ৰহ ভয় পান না । মাহুষ পাথরের মতো জড়পদার্থ হলে বাইরে হাতুড়ি কে তার মূর্তি বদল করা যেত ; কিন্তু মানুষের মূর্তিতে বাহির থেকে দৈন্ত দেখা দিলে ভিতরে প্রাণশক্তির দিকে মন দেওয়া চাই— হাতুড়ি চালাতে গেলে সেই প্রাণটার উপরেই ঘা পড়বে | এক দিন মোগল-পাঠানের ধাক্কা যেই লাগল হিন্দুরাজত্বের ছোটো ছোটাে আলগা পাটুকেলের কাচা ইমারত চার দিক থেকে খানখান হয়ে ভেঙে পড়ল। দেশে তখন স্বতোর অভাব ছিল না, কিন্তু সেই স্বতো দিয়ে জড়িয়ে বেঁধে ভাঙন বন্ধ করা যায় নি ; রাজার সঙ্গে তখন আর্থিক বিরোধ ছিল না, কেননা তার সিংহাসন ছিল দেশেরই মাটিতে। যেখানে ছিল গাছ তার পাকা ফল পড়ত সেইখানেই গাছতলায় । আজ আমাদের দেশে রাজা এক-আধজন নয়, একেবারে রাজার বন্তা ভারতের মাটি ধুয়ে তার ফসল ভাসিয়ে নিয়ে চলেছে সমুদ্রপারে। জমি তাতে ফল ও হারায়, উর্বরতা ও হারায় । এবারকার এ আঘাতও যে ঠেকাতে পারি নি তার কারণ এ নয় যে, আমাদের যথেষ্ট স্বতো নেই ; কারণ এই যে, আমাদের মিল নেই, প্রাণ নেই। কেউ কেউ বলেন, মোগল-পাঠানের আমলে আমাদের নিঃশক্তি ছিল বটে, কিন্তু অন্নবস্ত্র ও তো ছিল । নদীতে জলধারা যখন কম তখনো বাধ ఇN99