পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৭৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চরকা অধং ত্যজতি পণ্ডিতঃ । অর্থাৎ, না খেয়ে ৰখন মরতেই বসেছে তখন মনটাকে বাদ দিয়েই হাত চালিয়ে পেট চালানো। তাই বলে মাহুষের প্রধানতর অর্ধেকটা বাদ দেওয়াতেই তার dignity, এমন কথা বলে: তাকে সাস্তুনা দেওয়া তাকে বিদ্রপ করা । বস্তুত পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষকেই এই যন্ত্রীভবনের পক্ষুতা থেকে বাচাবে কিসে, এইটেই হয়েছে মস্ত সমস্যা । আমার বিশ্বাস, সব বড়ো সভ্যতাই হয় মরেছে নয় জীবনমৃত হয়েছে অল্প লোকের চাপে বহু লোককে মন-মরা করে দেওয়াতেই । কেননা মনই মানুষের সম্পদ। মনোবিহীন মজুরির আস্তরিক অগৌরব থেকে মানুষকে কোনো বাহ সমাদরে বাচাতে পারা যায় না। যারা নিজের কাছেই নিজে ভিতর থেকে খাটো হয়ে গেছে, অন্যেরা তাদেরই থাটো করতে পারে। যুরোপীয় সভ্যতায় বিজ্ঞানচর্চার সামনে যদি কোনো বড়ো নৈতিক সাধনা থাকে সে হচ্ছে বাহ প্রকৃতির হাতের সব রকম মার থেকে মানুষকে বাচানো, আর হচ্ছে মানুষেরই মনটাকে যন্ত্রে না বেঁধে প্রাকৃতিক শক্তিকেই যন্ত্রে বেঁধে সমাজের কাজ আদায় করা । এ কথা নিশ্চিত যে, বিজ্ঞানকে এক পাশে ঠেলে রেখে কেবল হাত চালিয়ে দেশের বিপুল দারিদ্র্য কিছুতে দূর হতে পারে না । মানুষের জানা এগিয়ে চলবে না, কেবল তার করাই চলতে থাকবে, মানুষের পক্ষে এত বড়ো কুলিগিরির সাধনা আর কিছুই নেই । একটা কথা মনে রাখতে হবে যে, মানুষ ষে দিন প্রথম চাকা আবিষ্কার করেছিল সে দিন তার এক মহা দিন । আচল জড়কে চক্রাকৃতি দিয়ে তার সচলত বাড়িয়ে দেবী মাত্র, যে বোঝা সম্পূর্ণ মাহুষের নিজের কাধে ছিল তার অধিকাংশই পড়ল জড়ের কাধে। সেই তো ঠিক, কেননা জড়ই তে শূদ্র । জড়ের তো বাহিরের সত্তার সঙ্গে সঙ্গে অস্তরের সত্তা নেই ; মানুষের আছে, তাই মানুষ মাত্রই দ্বিজ । তার বাহিরের প্রাণ, অস্তরের প্রাণ, উভয়কেই রক্ষা করতে হবে । তাই জড়ের উপর তার বাহ কর্মভার ९७é