পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৭৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চরকা দিয়েছে সে আর এগোবার কথা বলে না । কানের কাছে আওয়াজ করে না তা নয়, কিন্তু মনের সঙ্গে কথা কয় না । আমাকে কেউ কেউ বলেছেন, "চরকা ছাড়া আর কোনো কাজ কোরো না, এমন কথা তো আমরা বলি নে ? তা হতে পারে, কিন্তু ‘আর কোনো কাজ করো’ এ কথাও তো বলা হয় না । সেই না-বলাটাই কি প্রবল একটা বলা নয় ? স্বরাজসাধনায় একটিমাত্র কাজের হুকুম অতি নির্দিষ্ট, আর তার চার দিকেই নিঃশবতা । এই নিঃশব্দতার পটভূমিকার উপরে চরকা কি অত্যন্ত মস্ত হয়ে দেখা দিচ্ছে না ? বস্তুত সে কি এতই মস্ত ? ভারতবর্ষের তেত্রিশ কোটি লোক স্বভাবস্বাতন্ত্র্যনিবিচারে এই ঘূর্ণ্যমান চরকার কাছে যে যতটা পারে আপন সময় ও শক্তির নৈবেদ্য সমর্পণ করবে— চরকার কি প্রকৃতই সেই মহিমা আছে ? একই পূজাবিধিতে একই দেবতার কাছে সকল মানুষকে মেলবার জন্যে আজ পর্যস্ত নানা দেশে বারে বারে ডাক পড়ল। কিন্তু, তাও কি সম্ভব হয়েছে ? পূজাবিধিই কি এক তল না দেবতাই হল একটি ? দেবতাকে আর দেবাচনাকে সব মানুষের পক্ষে এক করবার জন্য কত রক্তপাত, কত নিষ্ঠুর অত্যাচার পৃথিবীতে চলে আসছে। কিছুতেই কিছু হল না, শুধু কি স্বরাজতীর্থের সাধনমন্দিরে একমাত্র চরকা-দেবীর কাছেই সকলের অৰ্ঘ্য এসে মিলবে ? মানবধর্মের প্রতি এত অবিশ্বাস ? দেশের লোকের 'পরে এত অশ্রদ্ধা ? গুপী ব’লে আমাদের এক পশ্চিমদেশী বেহারা ছিল । ছেলেবেলায় তার কাছে গল্প শুনেছিলুম যে, যখন সে পুরীতীর্থে গিয়েছিল, জগন্নাথের কাছে কোন খাদ্য ফল উৎসর্গ করে দেবে এই নিয়ে তার মনে বিষম ভাবনা উপস্থিত হল । সে বার বার মনে মনে সকল রকম খাবার যোগ্য ফলের ফর্দ আউড়িয়ে যেতে লাগল। কোনোটাতেই তার মন সায় দিলে না । অবশেষে হঠাৎ মনে পড়ে গেল বিলিতি বেগুন । তখনি তার দ্বিধা × ჯ» &