পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৭৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালাস্তর এগুলোকে কেবল পরমার্থের নয়, ঐক্যবদ্ধ মানুষের স্বার্থেরও অন্তরায় বলে ūţāCo League of Nations -o প্রতিষ্ঠা হয়তো রাষ্ট্রনীতিতে অহমিকামুক্ত মহন্তত্বের আসন-প্রতিষ্ঠার প্রথম উদযোগ । 犧 রাষ্ট্রনীতি যেমন একান্ত নেশন-স্বাতন্ত্র্যে, জীবিকাও তেমনি একান্ত ব্যক্তি-স্বাতন্ত্র্যে আবদ্ধ। এখানে তাই এত প্রতিযোগিতা, ঈর্ষা, প্রতারণা, মামুষের এত হীনতা । কিন্তু, মানুষ যখন মানুষ তখন তার জীবিকাও কেবল শক্তিসাধনার ক্ষেত্র না হয়ে মচুন্যত্বসাধনার ক্ষেত্র হয়, এইটেই উচিত ছিল । জীবিকার ক্ষেত্রেও মানুষ কেবল আপন অন্ন পাবে তা নয়, আপন সত্য পাবে, এই তো চাই । কয়েক বছর পূর্বে যে দিন সমবায়মূলক জীবিকার কথা প্রথম শুনি, আমার মনে জটিল সমস্তার একটা গাঁঠি যেন অনেকটা খুলে গেল। মনে হল যে, জীবিকার ক্ষেত্রে স্বার্থের স্বাতন্ত্র্য মানুষের সত্যকে এত দিন অবজ্ঞা করে এসেছিল, সেখানে স্বার্থের সম্মিলন সত্যকে আজ প্রমাণ করবার ভার নিয়েছে । এই কথাই বোঝাতে বসেছে যে, দারিদ্র্য মানুষের অসম্মিলনে, ধন তার সম্মিলনে । সকল দিকেই মানবসভ্যতার এইটেই গোড়াকার সত্য— মনুষ্যলোকে এ সত্যের কোথাও সীমা থাকতে পারে, এ আমি বিশ্বাস করি নে । জীবিকায় সমবায়তত্ত্ব এই কথা বলে যে, সত্যকে পেলেই মানুষের দৈন্ত ঘোচে, কোনো-একটা বাহ কর্মের প্রক্রিয়ায় ঘোচে না । এই কথায় মানুষ সম্মানিত হয়েছে । এই সমবায়ুতত্ত্ব একটা আইডিয়া ; একটা আচার নয়। এইজন্য বহু কর্মধারা এর থেকে স্বল্প হতে পারে । মনের সঙ্গে পদে পদেই এর মূকাবিলা । ইংরাজি ভাষায় যাকে স্ত্রাধা গলি বলে, জীবিকাসাধনার পক্ষে এ সে রকম পথ নয় । বুঝেছিলুম, এই পথ দিয়ে কোনোএকটি বিশেষ আকারের অল্প নয়, স্বয়ং অন্নপূর্ণ আসবেন যার মধ্যে অল্পের সকল প্রকার রূপ এক সত্যে মিলেছে । *. আমার কোনো কোনো আত্মীয় তখন সমবায়ুতত্ত্বকে কাজে খাটাবার & ፃe