পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৭৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চরকা আয়োজন করছিলেন । তাদের সঙ্গে আলোচনায় আমার মন আন্দোলিত হচ্ছিল, এমন সময় আয়লণ্ডের কবি ও কর্মবীর A. E. -রচিত National Being বইখানি আমার হাতে পড়ল । সমবায়জীবিকার একটা বৃহৎ বাস্তব রূপ স্পষ্ট চোখের সামনে দেখলুম। তার সার্থকতা যে কত বিচিত্র, মানুষের সমগ্র জীবনযাত্রাকে কেমন করে সে পূর্ণ করতে পারে, আমার কাছে তা উজ্জল হয়ে উঠল । অল্পব্রহ্মও যে ব্রহ্ম, তাকে সত্য পস্থায় উপলব্ধি করলে মানুষ যে বড়ো সিদ্ধি পায়— অর্থাং কর্মের মধ্যে বুঝতে পারে যে, অন্যের সঙ্গে বিচ্ছেদেই তার বন্ধন, সহযোগেই তার মুক্তি— এই কথাটি আইরিশ কবি-সাধকের গ্রন্থে পরিস্ফুট । নিশ্চয় অনেকে আমাকে বলবেন, এ-সব শক্ত কথা । সমবায়ের আইডিয়াটাকে বৃহংভাবে কাজে খাটানো অনেক চেষ্টায়, অনেক পরীক্ষায়, অনেক ব্যর্থতার ভিতর দিয়ে গিয়ে তবে অনেক দিনে যদি সম্ভব হয় । কথাটা শক্ত বই কি ! কোনো বড়ো সামগ্রীই সস্তা দামে পাওয়া যায় না । দুর্লভ জিনিসের সুখসাধ্য পথকেই বলে ফাকির পথ । চরকায় স্বরাজ পাওয়া যায়, এ কথা অনেকে বলছেন, অনেকে বিশ্বাসও করছেন, কিন্তু যিনি স্পষ্ট করে বুঝেছেন এমন লোকের সঙ্গে আজও আমার দেখা হয় নি। কাজেই তর্ক চলে না ; দেশে তর্ক চলছেও না, রাগারগি চলছে । যারা তর্কে নামেন তারা হিসাব করে দেখিয়ে দেন, কত চরকায় কত পরিমাণ স্বতো হয়, আর কত স্বতোয় কতটা পরিমাণ খদ্দর হতে পারে । অর্থাং তাদের হিসাব-মতে দেশে এতে কাপড়ের দৈন্ত কিছু ঘুচবে । তা হলে গিয়ে ঠেকে দৈন্য দূর করার কথায় । কিন্তু, দৈন্য জিনিসটা জটিল মিশ্র জিনিস। আর, এ জিনিসটার উৎপত্তির কারণ আছে আমাদের জ্ঞানের অভাবে, বুদ্ধির ক্রটিতে, প্রথার দোষে ও চরিত্রের দুর্বলতায় । মামুষের সমস্ত জীবনযাত্রাকে এক করে ধরে তবে ভিতরে বাহিরে এর প্রতিকার করা যেতে পারে । কাজেই

ግእ