পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৮৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চরকা রক্ত-পাত করতে থাকবে । বিদেশী কাপড় পরায় অশুচিত ঘটে এই নিষেধ যদি দেশের অধিকাংশ লোকে গ্রহণ করে, এবং অন্ন জল প্রভৃতি সম্বন্ধীয় অশুচিত-বোধের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সংস্কারগত হয়ে ওঠে, তা হলে সে দিন ইদের দিনে কলকাতায় যে রকম মাথা-ফাটাফাটি হয়েছে এ নিয়েও এক দিন ম্লেচ্ছ ও অম্লেচ্ছদের মধ্যে তেমনি সাংঘাতিক দ্বন্দ্ব বেধে যাবে। যে আচারপরায়ণ সংস্কারের অন্ধতা থেকে আমাদের দেশে অস্পৃশুতারীতির উৎপত্তি, সেই অন্ধতাই আজ রাষ্ট্রক ও আর্থিক ক্ষেত্রে আবির্ভূত হয়ে চরকা-খাদরিক অস্পৃশ্বতা-তত্ত্ব জাগিয়ে তুলছে। কেউ কেউ বলবেন, ‘তুমি যে সমবায়জীবিকার কথা বলছ সকলে মিলে চরকা কাটাই তো তাই । আমি তা মানি না । সমস্ত হিন্দুসমাজে মিলে কুয়োর জলের শুচিত রক্ষা করলেও সেটা জীবাণুত্তত্বমূলক স্বাস্থ্যবিজ্ঞান হয়ে ওঠে না ; ওটা একটা কর্ম, ওটা একটা সত্য নয় । এইজন্তেই কুয়োর জল যখন শুচি থাকছে পুকুরের জল তখন মলিন হচ্ছে, ঘরের কানাচের কাছে গর্ত ডোবায় তখন রোগের বীজাণু অপ্রতিহত প্রভাবে যমরাজের শাসন প্রচার করছে । আমাদের দেশে কামুন্দি তৈরি করবার সময় আমরা অত্যন্ত সাবধান হই— এই সাবধানতার মূলে প্যাস্ট্যরআবিষ্কৃত তত্ব আছে, কিন্তু যেহেতু তত্ত্বটা রোগের বীজাণুর মতোই অদৃশু আর বাহ কর্মটা পরিস্ফীত পিলেটারই মতো প্রকাও সেইজন্যেই এই কর্মপ্রণালীতে কেবলমাত্ৰ কামুন্দিই বাচছে, মাতুষ বাচছে না । , একমাত্র কামুদি তৈরি করবার বেলাতেই বিশ্বযুদ্ধ লোকে মিলে নিয়ম মানার মতোই, একমাত্র স্বতো তৈরির বেলাতেই তেত্রিশ কোটি লোকে মিলে বিশেষ আচার রক্ষা । তাতে স্বতে অনেক জমবে, কিন্তু যুগে যুগে যে অন্ধতা জমে উঠে আমাদের দারিদ্র্যকে গড়বন্দী করে রেখেছে তার গায়ে হাত পড়বে না । মহাত্মাজির সঙ্গে কোনো বিষয়ে আমার মতের বা কার্যপ্রণালীর

ግ¢