পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৮৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালাস্তর ভিন্নতা আমার পক্ষে অত্যন্ত অরুচিকর। বড়ো করে দেখলে তাতে কোনো দোষ নেই। কিন্তু তবু সব সময়ে মন মানে না। কেননা, র্যাকে প্রতি করি, ভক্তি করি, তার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে সহযোগিতার মতো আনন্দ আর কী হতে পারে ? তার মহৎ চরিত্র আমার কাছে পরম বিস্ময়ের বিষয় । ভারতের ভাগ্যবিধাতা তার হাত দিয়ে একটি দীপামান দুর্জয় দিব্য শক্তি আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন । এই শক্তি ভারতবাসীকে অভিভূত না করুক, বলশালী করুক ; তাকে নিজের মন দিয়ে চিস্তা করতে, সংকল্প করতে, ত্যাগ করতে শিক্ষা দিক— এই আমার কামনা } যে কারণ ভিতরে থাকাতে রামমোহন রায়ের মতে অত বড়ো মনস্বীকেও মহাত্মা বামন বলতে কুষ্ঠিত হন নি– অথচ আমি সেই রামমোহনকে আধুনিক যুগের মহত্তম লোক বলেই জানি– সেই আভ্যস্তরিক মনঃপ্রকৃতি-গত কারণই মহাত্মাজির কর্মবিধিতে এমন রূপ ধারণ করেছে যাকে আমার স্বধৰ্ম আপন ব’লে গ্রহণ করতে পারছে না । সেজন্যে আমার খেদ রয়ে গেল । কিন্তু, সাধনার বিচিত্র পথই বিধাতার অভিপ্রেত, নইলে প্রকৃতিভেদ জগতে কেন থাকবে ? ব্যক্তিগত অহুরাগের টানে মহাত্মাজির কাছ থেকে চরকায় দীক্ষা নেবার প্রবল ইচ্ছা বারে বারে আমার মনে এসেছে। কিন্তু, আমার বুদ্ধিবিচারে চরকার যতটুকু মর্যাদা তার চেয়ে পাছে বেশি স্বীকার করা হয়, এই ভয়ে অনেক দ্বিধা করে নিরস্ত হয়েছি । মহাত্মাজি আমাকে ঠিক বুঝবেন জানি, এবং পূর্বে ৪ বার বার আমার প্রতি যেমন ধৈর্য রক্ষা করেছেন আজও করবেন ; আচার্য রায়মশায়ও জনাদরনিরপেক্ষ মতস্বাতন্ত্র্যকে শ্রদ্ধা করেন, অতএব মাঝে মাঝে বক্তৃতাসভায় যদিচ মুখে তিনি আমাকে অকস্মাং তাড়না করে উঠবেন, তবু অস্তরে আমার প্রতি নিষ্করুণ হবেন না । আর, যারা আমার দেশের লোক, র্যাদের চিত্তস্রোত বেয়ে উপকার আর অপকার উভয়েরই কত স্মৃতি অতলের মধ্যে তলিয়ে গেল, তারা আজ আমাকে যদি ক্ষমা না ২৭ণ্ড