পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৮৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


স্বরাজসাধন চাষ প্রভৃতি হাতের কাজের প্রকৃতিই এই যে, তাতে চালনার অভাবে মনকে নিশ্চেষ্ট করে দেয় । একটা চিরাভ্যস্ত কাজের থেকে আর-একটা ভিন্ন প্রকৃতির কাজে যেতে গেলেই মনের সক্রিয়তা চাই । কিন্তু চাষ প্রভৃতি মজুরির কাজ লাইন-বাধা কাজ। তা চলে ট্রামগাড়ির মতো । হাজার প্রয়োজন হলেও লাইনের বাইরে নতুন পথ তার পক্ষে সহজ নয়। চাষিকে চাষের বাইরে যে কাজ করতে বলা যায় তাতে তার মন ডিরেলড় হয়ে যায়। তবু ঠেলেঠলে তাকে হয়তো নড়ানো যেতে পারে, কিন্তু তাতে শক্তির বিস্তর অপব্যয় ঘটে । বাংলাদেশের অন্তত দুই জেলার চাষির সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠ পরিচয়। অভ্যাসের বাধন তাদের পক্ষে যে কত কঠিন তার অভিজ্ঞতা আমার আছে । এক জেলা এক ফসলের দেশ । সেখানে ধান উৎপন্ন করতে চাষিরা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে । তার পরে তাদের ভিটের জমিতে তার অবসরকালে সবজি উৎপন্ন করতে পারত। উৎসাহ দিয়েছিলুম, ফল পাই নি । যারা ধান-চাষের জন্য প্রাণপণ করতে পারে, তারা সবজিচাষের জন্ত একটুও নড়ে বসতে চায় না । ধানের লাইন থেকে সবজির লাইনে তাদের মনকে ঠেলে তোলা কঠিন। আর-এক জেলায় চাষি ধান পাট আখ সর্ষে প্রভৃতি সকল রকম চাষেই লেগে আছে । কিন্তু, যে জমিতে এ-সব শস্ত সহজে হয় না সে জমি তাদের বৃথা পড়ে থাকে, তার খাজনা বহন করে চলে। অথচ বৎসরে বৎসরে পশ্চিম-অঞ্চল থেকে চাষি এসে এই জমিতেই তৰ্মজ থর্ম,জ কাকুড় প্রভৃতি ফলিয়ে যথেষ্ট লাভ করে নিয়ে দেশে ফিরে যায়। তবু স্থানীয় চাষি এই অনভ্যস্ত ফসল ফলিয়ে অবস্থার উন্নতি করতে বিমুখ । তাদের মন সরে না। যে চাষি পাটের ফলন করে তাকে স্বভাবত অলস বলে বদনাম দেওয়া চলে না । শুনেছি পৃথিবীর অন্যত্র কোথাও কোথাও পাট উৎপন্ন করা কঠিন নয়, কিন্তু সেখানকার লোকেরা পাট প্রস্তুত રbr>