পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৯০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর করার দুঃসাধ্য দুঃখ বহন করতে নারাজ । বাংলাদেশে যে পাট একচেটে তার একমাত্র কারণ এখানকার জমিতে নয়, এখানকার চাষিতে । অথচ আমি দেখেছি, এই চাষিই তার বালুজমিতে তৰ্ম জ ফলিয়ে লাভ করবার দৃষ্টাস্ত বৎসর বৎসর স্বচক্ষে দেখা সত্ত্বেও এই অনভ্যস্ত পথে যেতে 5श्च न । যখন কোনো-একটা সমস্তার কথা ভাবতে হয় তখন মানুষের মনকে কী করে এক পথ থেকে আর-এক পথে চালানো যায়, সেই শক্ত কথাটা ভাবতে হয় ; কোনো একটা সহজ উপায় বাহিকভাবে বাংলিয়ে দিলেই যে কাজ হাসিল হয়, তা বিশ্বাস করি নে— মানুষের মনের সঙ্গে রফানিস্পত্তি করাই হল গোড়ার কাজ। হিন্দু-মুসলমানের মিলন হোক, বাহিরের দিক থেকে এই পরোয়ানা জাহির করা কঠিন নয়। এই উপলক্ষ্যে হিন্দুরা খিলাফত আন্দোলনে যোগ দিতে পারে, কেননা সে রকম যোগ দেওয়া খুবই সহজ । এমন কি নিজেদের আর্থিক স্ববিধাও মুসলমানদের জন্য অনেক পরিমাণে ত্যাগ করতে পারে ; সেটা দুরূহ সন্দেহ নেই, তবু এহ বাহা’ । কিন্তু, হিন্দু-মুসলমানের মিলনের উদ্দেশে পরস্পরের মনের চিরাগত সংস্কারের পরিবর্তন করা সহজ নয়। সমস্যাটাসেইখানেই ঠেকেছে। হিন্দুর কাছে মুসলমান অশুচি, আর মুসলমানের কাছে হিন্দু কাফের— স্বরাজপ্রাপ্তির লোভেও এ কথাটা ভিতর থেকে উভয় পক্ষের কেউ ভুলতে পারে না । আমি একজন ইংরেজিনবিশের কথা জানতেম, হোটেলের থানার প্রতি তার খুব লোভ ছিল। তিনি আর-সমস্তই রুচিপূর্বক আহার করতেন, কেবল গ্রেট-ঈস্টারনের ভাতটা বাদ দিতেন ; বলতেন, মুসলমানের রান্না ভাতট। কিছুতেই মুখে উঠতে চায় না। যে সংস্কারগত কারণে ভাত খেতে বাধে সেই সংস্কারগত কারণেই মুসলমানের সঙ্গে ভালো করে মিলতে র্তার বাধবে । ধর্মনিয়মের আদেশ নিয়ে মনের যে-সকল অভ্যাস আমাদের অন্তর্নিহিত সেই অভ্যাসের মধ্যেই ২৮২