পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৯৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


স্বরাজসাধন আমাদের দেশের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, তারা তাদের জমি থেকে আমাদের চেয়ে দ্বিগুণ চারগুণ বেশি ফসল আদায় করছে। এই জ্ঞানালোকিত পথ সহজ পথ নয়, সত্য পথ । এই পথ-আবিষ্কারে মচুন্যত্বের প্রমাণ হয়। চাষের উৎকর্ষ-উদ্ভাবনের দ্বারা চাষির উদ্যমকে ষোলো-আনা খাটাবার চেষ্টা না করে তাকে চরকা ঘোরাতে বলা শক্তিহীনতার পরিচয় । আমরা চাবিকে অলস বলে দোষ দিই, কিন্তু তার অবস্থার উন্নতিসাধনের উদ্দেশ্যে আমরা যখন তাকে চরকা ধরতে পরামর্শ দিই তখন সেটাতে আমাদেরই মানসিক আলস্তের প্রমাণ হয় । এত ক্ষণ এই যা আলোচন করা গেল এটা এই মনে করেই করেছি যে, সুতো ও গদর বহুল পরিমাণে দেশে উৎপন্ন হলে তাতে এক দল শ্রমিকের অর্থকষ্ট দূর হবে । কিন্তু, সেও মেনে-নেওয়া কথা । এ সম্বন্ধে যাদের অভিজ্ঞতা আছে তারা সন্দেহ প্রকাশ করেও থাকেন ; আমার মতো আনাড়ির সে তর্কে প্রবেশ করে কাজ নেই । আমার নালিশ এই যে, চরকার সঙ্গে স্বরাজকে জড়িত করে স্বরাজ সম্বন্ধে দেশের জনসাধারণের বুদ্ধিকে ঘুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে । দেশের কল্যাণ বলতে যে কতখানি বোঝায়, তার ধারণা আমাদের সুস্পষ্ট হওয়া চাই । এই ধারণাকে অত্য স্তু বাহ্যিক ও অত্যস্ত সংকীর্ণ করার দ্বারা আমাদের শক্তিকে ছোটো করে দেওয়া হয় । আমাদের মনের উপর দাবি কমিয়ে দিলে অলস মন নিজীব হয়ে পড়ে । দেশের কল্যাণসাধনায় চরকাকে প্রধান স্থান দেওয়া অবমানিত মনকে নিশ্চেষ্ট করে তোলবার উপায় । দেশের কল্যাণের একটা বিশ্বরূপ মনের সম্মুখে উজ্জল করে রাখলে দেশের লোকের শক্তির বিচিত্র ধারা সেই অভিমুখে চলবার পথ সমস্ত হৃদয় ও বুদ্ধিশক্তির দ্বারা খনন করতে পারে । সেই রূপটিকে যদি ছোটো করি আমাদের সাধনাকেও ছোটো করা হবে । পৃথিবীতে যারা দেশের জন্তে, মানুষের জন্তে দুঃসাধ্য ত্যাগম্বীকার করেছে Հ Ե Փ