পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৯৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


স্বরাজসাধন করতে পারে। নইলে যদি একখানা আজান্থ পা নিয়েই তাদের চার পাঁচ বছর কাটাতে হত, তা হলে সেই আংশিকের দাসত্ব তাদের পক্ষে অসহ হয়ে উঠত। স্বরাজকে যদি প্রথমে দীর্ঘকাল কেবল চরকার স্থতো -আকারেই দেখতে থাকি তা হলে আমাদের সেই দশাই হবে । এই রকম অন্ধ সাধনায় মহাত্মার মতো লোক হয়তো কিছু দিনের মতো আমাদের দেশের এক দল লোককে প্রবৃত্ত করতেও পারেন, কারণ র্তার ব্যক্তিগত মাহায্যের ’পরে তাদের শ্রদ্ধা আছে । এইজন্তে তার আদেশ পালন করাকেই অনেকে ফললাভ বলে গণ্য করে । আমি মনে করি, এ রকম মতি স্বরাজলাভের পক্ষে অমুকুল নয়। স্বদেশের দায়িত্বকে কেবল স্বতে কাটায় নয়, সম্যক ভাবে গ্রহণ করবার সাধনা ছোটো ছোটো আকারে দেশের নানা জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করা আমি অত্যাবশ্বক মনে করি । সাধারণের মঙ্গল জিনিসটা অনেকগুলি ব্যাপারের সমবায় । তারা পরস্পর ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ৷ তাদের একটাকে পৃথক করে নিলে ফল পাওয়া ৰায় না । স্বাস্থ্যের সঙ্গে, বুদ্ধির সঙ্গে, জ্ঞানের সঙ্গে, কর্মের সঙ্গে, আনন্দের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারলে তবেই মানুষের সব ভালো পূর্ণ ভালো হয়ে ওঠে। স্বদেশের সেই ভালোর রূপটিকে আমরা চোখে দেখতে চাই । সহস্র উপদেশের চেয়ে তাতে আমরা কাজ পাব । বিশেষ বিশেষ লোকালয়ে সাধারণের কল্যাণসাধনের দায়িত্ব প্রত্যেকে কোনো না কোনো আকারে গ্রহণ ক’রে একটি স্বস্থ জ্ঞানবান শ্ৰীসম্পন্ন সম্মিলিত প্রাণযাত্রার রূপকে জাগিয়ে তুলেছে, এমন-সকল দৃষ্টাস্ত চোখের সামনে ধরা দরকার। নইলে স্বরাজ কাকে বলে সে আমরা স্বতে কেটে, খদ্দর পরে, কথার উপদেশ শুনে কিছুতেই বোঝাতে পারব না । যে জিনিসটাকে সমস্ত ভারতবর্ষে পেতে চাই ভারতবর্ষের কোনো-একটা ক্ষুদ্র অংশে তাকে যদি স্পষ্ট করে দেখা যায়, ՀԵ-Պ