পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর করিয়াছিল, তাহার সঙ্গে ইহার সম্বন্ধ বিচ্ছিন্ন। অথচ আমরা তারিখের হিসাব করিয়া বলিতেছি, জগতে আমাদের মতো সনাতন আর-কিছুই নাই। কিন্তু তারিখ তো কেবল অঙ্কের হিসাব, তাহা তো প্রাণের হিসাব লয়। তাহা হইলে তো ভস্মও অঙ্ক গণনা করিয়া বলিতে পারে, সেই সকলের চেয়ে প্রাচীন অগ্নি । পৃথিবীর সমস্ত বড়ো বড়ো সভ্যতাই দুঃসাহসের স্বষ্টি । শক্তির দুঃসাহস, বুদ্ধির ছঃসাহস, আকাঙ্ক্ষার দুঃসাহস । শক্তি কোথাও বাধা মানিতে চায় নাই বলিয়া মানুষ সমুদ্র পর্বত লঙ্ঘন করিয়া চলিয়া গিয়াছে ; বুদ্ধি আপাত প্রতীয়মানকে ছাড়াইয়া, অন্ধ সংস্কারের মোহজালকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করিয়া, মহৎ হইতে মহীয়ানে, অণু হইতে অণীয়ানে, দূর হইতে দূরাস্তরে, নিকট হইতে নিকটতমে সগৌরবে বিহার করিতেছে ; ব্যাধি দৈন্ত অভাব অবজ্ঞা কিছুকেই মানুষের আকাঙ্ক্ষা অপ্রতিহার্য মনে করিয়া হাল ছাড়িয়া বসিয়া নাই, কেবলই পরীক্ষার পর পরীক্ষা করিয়া চলিতেছে । যাহাদের সে দুঃসাহস নাই তাহারা আজও মধ্য-আফ্রিকার অরণ্যতলে মূঢ়তার স্বকপোলকল্পিত বিভীষিকার কাটার বেড়াটুকুর মধ্যে যুগযুগান্তর গুড়ি মারিয়া বসিয়া আছে । এই দুঃসাহসের মধ্যে একটা প্রবল অবিবেচনা আছে । আজ যাহারা আকাশযানে উডিতে উড়িতে আকাশ হইতে পড়িয়া চুরমার হইয়া মরিতেছে তাহীদের মধ্যে সেই দুরস্ত অবিবেচনা কাজ করিতেছে । এমনি করিয়াই এক দিন যাহারা সমুদ্র পার হুইবার সাধনা করিতে করিতে হাজার হাজার জলে ডুবিয়া মরিয়াছে, সেই অবিবেচনাই তাহাদিগকে তাড়া করিয়াছিল । সেই স্কুধৰ্ব অবিবেচনার উত্তেজনাতেই আজি ও মানুষ তুষারদৈত্যের পাহার এড়াইয়া কখনো উত্তরমেরু, কখনো দক্ষিণমেরুতে কেবলমাত্র দিগ্‌বিজয় করিবার জন্ত চুটিয়া চলিয়াছে। এমনি করিয়া যাহারা নিতান্ত লক্ষ্মীছাড়া তাহারাই লক্ষ্মীকে স্বৰ্গম অন্ত:পুর ર છે