পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩০২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর স্থানকালপাত্রোচিত হয়েছে কি না সন্দেহ করি। তুমি ঘোড়ার সামনের দিকে গাড়ি জোৎবার আয়োজনে যোগ দিচ্ছ না ; শুধু তাই নয়, ঘোড়াটাকে জোৎবার উদযোগ বন্ধ রেখে খবর নিতে চাও সে দীনী পেলে কি না, ওর দম কতটুকু বাকি। তোমার মন্ত্রণাদাতা বন্ধুদের মধ্যে এমন কি কেউ নেই যে তোমাকে বলতে পারে আগে গাড়ি টানাও, তা হলেই অমুক শুভ লগ্নে গম্যস্থানে পৌছবই— তার পরে পৌছবা মাত্রই যথেষ্ট সময় পাওয়া যাবে খবর নেবার জন্তে যে ঘোড়াটা সচল না অচল, বেঁচে আছে না মরেছে ? তোমার জানা উচিত ছিল, হাল আমলের পলিটিকুলে টাইম্‌টেবল তৈরি, তোরঙ্গ গুছিয়ে গাড়িতে চড়ে বলাই প্রধান কর্তব্য। অবশেষে গাড়িটা কোনো জায়গাতেই পৌছয় না বটে, কিন্তু সেটা টাইম্‌টেবলের দোষ নয় ; ঘোড়াটা চললেই হিসেব ঠিক মিলে যেত। তুমি তাকিক ; এত বড়ে উৎসাহে বাধা দিয়ে বলতে চাও, ঘোড়াটা ষে চলে না বহুকাল থেকে সেইটেই গোড়াকার সমস্ত । তুমি সাবেক ফ্যাশানের সাবধানী মানুষ, আস্তাবলের খবরটা আগে চাও । এ দিকে হাল ফ্যাশানের উৎসাহী মানুষ কোচবাক্সে চড়ে বসে অস্থিরভাবে পা ঘষছে ; ঘরে আগুল লাগার উপমা দিয়ে সে বলছে, অতি শীঘ্র পৌছনো চাই, এইটেই একমাত্র জরুরি কথা । অতএব ঘোড়ার খবর নেওয়া নিছক সময় নষ্ট করা। সব-আগে দরকার গাড়িতে চড়ে বসা । তোমার ‘রায়তের কথা’ সেই ঘোড়ার কথা, যাকে বলা যেতে পারে গোড়ার কথা । ९ কিন্তু ভাবনার কথা এই যে, বর্তমান কালে এক দল জোয়ান মানুষ রায়তের দিকে মন দিতে শুরু করেছেন। সব-আগে তার হাতের গুলি পাকাচ্ছেন। বোঝা যাচ্ছে, তারা বিদেশে কোথাও একটা নজির २♚ 8