পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩০৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রায়তের কখা নকলনৈপুণ্যের নাট্য, ম্যাজেন্ট রঙে ছোবালো। এর আছে উপরে হাতপা ছোড়া, ভিতরে চিত্তহীনতা । O আমি নিজে জমিদার, এইজন্তে হঠাৎ মনে হতে পারে, আমি বুঝি নিজের আসন বাচাতে চাই। যদি চাই তা হলে দোষ দেওয়া যায় না— ওটা মানবস্বভাৰ । যারা সেই অধিকার কাড়তে চায় তাদের যে বুদ্ধি, যারা সেই অধিকার রাখতে চায় তাদেরও সেই বুদ্ধি ; অর্থাৎ কোনোটাই ঠিক ধর্মবুদ্ধি নয়, ওকে বিষয়বুদ্ধি বলা যেতে পারে। আজ যার কাড়তে চায় যদি তাদের চেষ্টা সফল হয় তবে কাল তারাই বনবিড়াল হয়ে উঠবে। হয়তো শিকারের বিষয়-পরিবর্তন হবে, কিন্তু দাতনখের ব্যবহারটা কিছুমাত্র বৈষ্ণব ধরনের হবে না। আজ অধিকার কাড়বার বেলা তার যে-সব উচ্চ-অঙ্গের কথা বলে তাতে বোঝা যায়, তাদের ‘নামে রুচি" আছে ; কিন্তু কাল যখন 'জীবে দয় 'র দিন আসবে তখন দেখব, আমিষের প্রতি জিহবার লেলিহান চঞ্চল্য । কারণ, নামট1 হচ্ছে মুখে, আর লোভটা হচ্ছে মনে । অতএব, দেশের চিত্তবৃত্তির মাটিতে আজ ষে জমিদার দেখা দিয়েছে সে যদি নিছক কাটাগাছই হয়, তা হলে তাকে দ’লে ফেললেও সেই মরা গাছের সারে দ্বিতীয় দফা কাটাগাছের শ্ৰীবুদ্ধিই ঘটবে। কারণ, মাটি বদল হল না তো । আমার জন্মগত পেশা জমিদারি, কিন্তু আমার স্বভাবগত পেশ। আসমানদারি । এই কারণেই জমিদারির জমি আঁকড়ে থাকতে আমার অস্তরের প্রবৃত্তি নেই। এই জিনিসটার পরে আমার শ্রদ্ধার একাত্ত অভাব। আমি জানি, জমিদার জমির জোক ; সে প্যারাসাইট, পরাশ্রিত জীব । আমরা পরিশ্রম না ক'রে, উপার্জন না করে, কোলো যথার্থ দায়িত্ব গ্রহণ না ক'রে ঐশ্বৰ্ষভোগের দ্বারা দেহকে অপটু ও চিত্তকে રે છે ૧