পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩০৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর অলস করে তুলি। যারা বীর্ষের দ্বারা বিলাসের অধিকার লাভ করে আমরা সে জাতির মানুষ নই। প্রজারা আমাদের অন্ন জোগায় আর আমলারা আমাদের মুখে অন্ন তুলে দেয়— এর মধ্যে পৌরুষও নেই, গৌরবও নেই। নিজেকে ছোটো হাতের মাপে রাজা বলে কল্পনা করবার একটা অভিমান আছে বটে। ‘রায়তের কথা’য় পুরাতন দপ্তর ঘেঁটে তুমি সেই স্থখস্বপ্নেও বাদ সাধতে বলেছ। তুমি প্রমাণ করতে চাও যে, আমরা ইংরেজ-রাজসরকারের পুরুষানুক্রমিক গোমস্তা। আমরা এ দিকে রাজার নিমক খাচ্ছি ; রায়তদের বলছি "প্রজা’, তারা আমাদের বলছে ‘রাজা”— মস্ত একটা ফাকির মধ্যে আছি । এমন জমিদারি ছেড়ে দিলেই তো হয় ? কিন্তু, কাকে ছেড়ে দেব ? অন্ত এক জমিদারকে ? গোলাম-চোর খেলার গোলাম যাকেই গতিয়ে দিই, তার দ্বারা গোলাম-চোরকে ঠেকানো হয় না । প্রজাকে ছেড়ে দেব ? তখন দেখতে দেখতে এক বড়ো জমিদারের জায়গায় দশ ছোটো জমিদার গজিয়ে উঠবে । রক্তপিপাসায় বড়ো জোকের চেয়ে ছিনে জোকের প্রবৃত্তির কোনো পার্থক্য আছে তা বলতে পারি নে। তুমি বলেছ, জমি চাষ করে যে জমি তারই হওয়া উচিত। কেমন করে তা হবে জমি যদি পণ্যদ্রব্য হয়, যদি তার হস্তান্তরে বাধা না থাকে ? এ কথা মোটের উপর বলা চলে যে, বই তারই হওয়া উচিত যে মাছুষ বই পড়ে। যে মামুব পড়ে না অথচ সাজিয়ে রেখে দেয়, বইয়ের সদব্যবহারীকে সে বঞ্চিত করে । কিন্তু, বই যদি পটোলডাঙার দোকানে বিক্রি করতে কোনো বাধা না থাকে তা হলে যার বইয়ের শেলফ আছে, বুদ্ধিবিদ্যা নেই, সে যে বই কিনবে না এমন ব্যবস্থা কী করে করা যায় ? সংসারে বইয়ের শেলফ বুদ্ধির চেয়ে অনেক স্থলত ও প্রচুর। এই কারণে অধিকাংশ বইয়ের গতি হয় শেলফের থাকে, বুদ্ধিমানের ভেস্কে নয়। সরস্বতীর বরপুত্র যে ছবি রচনা করে লক্ষ্মীর বরপুত্র তাকে দখল করে বলে। ૨૪br