পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩০৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালাস্তুর আত্মসাং করবার চেষ্টায় ছিল তখন জমিদার রায়তকে বাচিয়েছে। নিষেধ-অাইনের বাধ যদি সে দিন না থাকত তা হলে নীলের বস্তায় রায়তি জমি ডুবে একাকার হত। মনে করে, আজ কোনো কারণে বাংলার উৎপন্ন ফসলের প্রতি যদি মাড়োয়ারি দখল-স্থাপনের উদ্দেশে ক্রমশ প্রজার জমি ছিনিয়ে নিতে ইচ্ছা করে, তা হলে অতি সহজেই সমস্ত বাংলা তারা ঘানির পাকে ঘুরিয়ে তার সমস্ত তেল লিংড়ে নিতে পারে। এমন মং লব এদের কারও মাথায় যে কোনো দিন আসে নি, তা মনে করবার হেতু নেই। যে-সব ব্যবসায়ে এরা আজ নিযুক্ত আছে তার মুনফায় বিঘ্ন ঘটলেই আবদ্ধ মূলধন এই-সব খাতের সন্ধান খুজবেই। এখন কথা হচ্ছে, ঘরের দিকে বেনে জল ঢোকাবার অমুকুল খাল-খনন কি রায়তের পক্ষে ভালো ? মূল কথাটা এই— রায়তের বুদ্ধি নেই, বিস্তা নেই, শক্তি নেই, আর ধনস্থানে শনি । তারা কোনোমতে নিজেকে রক্ষা করতে জানে না । তাদের মধ্যে যারা জানে তাদের মতে ভয়ংকর জীব আর নেই। রায়তখাদক রায়তের ক্ষুধা যে কত সর্বনেশে তার পরিচয় আমার জালা আছে । তারা যে প্রণালীর ভিতর দিয়ে স্ফীত হতে হতে জমিদার হয়ে ওঠে, তার মধ্যে শয়তানের সকল শ্রেণীর অমুচরেরই জটলা দেখতে পাবে । জাল-জালিয়াতি, মিথ্যা-মকদমা, ঘর-জালানো, ফসল-তছরূপ – কোনো বিভীষিকায় তাদের সংকোচ নেই । জেলখানায় যাওয়ার মধ্য দিয়ে তাদের শিক্ষা পাকা হয়ে উঠতে থাকে। আমেরিকায় যেমন শুনতে পাই ছোটো ছোটো ব্যাবসাকে গিলে ফেলে বড়ে বড়ো ব্যাবসা দানবাকার হয়ে ওঠে, তেমনি করেই দুর্বল রায়তের ছোটো ছোটো জমি ছলে বলে কৌশলে আত্মসাৎ করে প্রবল রায়ত ক্রমে জমিদার হয়ে উঠতে থাকে। এর প্রথম অবস্থায় নিজে জমি চাষ করেছে, নিজের গোরুর গাড়িতে মাল ভুলে হাটে বেচে Woo o