পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩০৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রায়তের কথা এসেছে, স্বাভাবিক চতুরতা ছাড়া অন্ত চাষির সঙ্গে এদের কোনো প্রভেদ ছিল না । কিন্তু, যেমনি জমির পরিধি বাড়তে থাকে অমনি হাতের লাঙল খসে গিয়ে, গদার আবির্ভাব হয় । পেটের প্রত্যস্তসীমা প্রসারিত হতে থাকে, পিঠের দিকে লাগে তাকিয়া, মুলুকের মিথ্যা মকদ্দমাপরিচালনার কাজে পসার জমে, আর তার দাবরাব-তর্জন-গর্জন শাসনশোষণের সীমা থাকে না । বড়ো বড়ো জালের ফাক বড়ো, ছোটে। মাছ তার ভিতর দিয়ে পালাবার পথ পায় ; কিন্তু ছোটে। ছোটো জালে চুনোপুটি সমস্তই ছাকা পড়ে— এই চুনোপুটির বাক নিয়েই রায়ত । একটা কথ। মনে রাখতে হবে যে, প্রতিকূল আইনটাকেই নিজের অংকুল করে নেওয়াই মকদ্দমার জুজুৎস্থ খেলা । আইনের যে আঘাত মারতে আসে সেই আঘাতের দ্বারাই উন্টিয়ে মারা ওকালতি-কুস্তির মারাত্মক প্যাচ । এই কাজে বড়ো বড়ো পালোয়ান নিযুক্ত আছে । অতএব রায়ত যত দিন বুদ্ধি ও অর্থের তহবিলে সম্পন্ন হয়ে না ওঠে তত দিন ‘উচল’ আইনও তার পক্ষে ’অগাধ জলে পড়বার উপায় হবে । এ কথা বলতে ইচ্ছা করে না, শুনতেও ভালো লাগে না যে, জমি সম্বন্ধে রায়তের স্বাধীন ব্যবহারে বাধা দেওয়া কর্তব্য । এক দিক থেকে দেখতে গেলে যোলো-অান স্বাধীনতার মধ্যে আত্ম-অপকারের স্বাধীন তাও আছে । কিন্তু তত বড়ো স্বাধীনতার অধিকার তারই যার শিশুবুদ্ধি নয়। যে রাস্তায় সর্বদা মোটর-চলাচল হয় সে রাস্তায় সাবালক মামুষকে চলতে বাধা দিলে সেটাকে বলা যায় জুলুম ; কিন্তু অত্যন্ত নাবালককে যদি কোনো বাধা না দিই তবে তাকে বলে অবিবেচনা । আমার ঘেটুকু অভিজ্ঞতা তাতে বলতে পারি, আমাদের দেশের মূঢ় রায়তদের জমি অবাধে হস্তাস্তর করবার অধিকার দেওয়া আত্মহত্যার অধিকার দেওয়া । এক সময়ে সেই অধিকার তাদের দিতেই হবে, কিন্তু এখন দিলে কি সেই অধিকারের কিছু বাকি থাকবে ? 9 е 3