পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩২০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালাস্তর বৌদ্ধধর্ম সন্ন্যাসীর ধর্ম। কিন্তু তা সত্ত্বেও যখন দেখি তারই প্রবর্তনায় গুহাগহবরে চৈত্যবিহারে বিপুলশক্তিসাধ্য শিল্পকলা অপর্যাপ্ত প্রকাশ পেয়ে গেছে তখন বুঝতে পারি, বৌদ্ধধর্ম মামুষের অস্তরতম মনে এমন একটি সত্যবোধ জাগিয়েছে যা তার সমস্ত প্রকৃতিকে সফল করেছে, যা তার স্বভাবকে পঙ্গু করে নি। ভারতের বাহিরে ভারতবর্ষ যেখানে তার মৈত্রীর সোনার কাঠি দিয়ে স্পর্শ করেছে সেখানেই শিল্পকলার কী প্রভূত ও পরমাশ্চর্য বিকাশ হয়েছে। শিল্পস্থ$মহিমায় সে-সকল দেশ মহিমান্বিত হয়ে উঠেছে । অথচ সেখানকার লোকের সমজাতীয়দের দেখো, দেখবে, তারা নরঘাতক, তারা শিল্পসম্পদহীন । এমন-সকল নিরালোক চিত্তে আলো জাললে দয়াধর্ম ত্যাগধর্ম মৈত্রীধর্মের মহতী বাণীর দ্বারা । সেখানকার লোকে সামান্ত বেশভূষা-ভাষার পরিবর্তনের দ্বারা স্বাতন্ত্র্য পেয়েছে তা নয় ; স্বষ্টি করবার সুপ্ত শক্তি তাদের মধ্যে জাগ্রত হয়েছে— সে কী পরমাস্তুত স্বষ্টি ! এই-সকল দ্বীপেরই আশে পাশে আরো তো অনেক দ্বীপ আছে। সেখানে আমরা বরবুদর’ দেখি নে কেন ? সে-সব জায়গায় "আঙ্করবট’এর সমতুল্য বা সমজাতীয় কিছু নেই কেন ? সত্যের জাগরণমন্ত্র যে সেখানে পৌছায় নি। মানুষকে অমুকরণে প্রবৃত্ত করার মধ্যে গৌরব নেই, কিন্তু মানুষের মুগু শক্তিকে মুক্তিদান করার মতো এত বড়ো গৌরবের কথা আর কি কিছু আছে ? লোকে যখন দরিদ্র হয় তখন বাইরের দিকে গৌরব খুজে বেড়ায় । তখন কথা বলে গৌরব করতে চায়, তখন পুথি থেকে শ্লোক খুটে খুটে গৌরবের মালমসলা ভগ্নস্ত,প থেকে সঞ্চয় করতে থাকে। এমনি ক’রে সত্যকে ব্যবহার থেকে দূরে রেখে যদি গলার জোরে পুরাতন গৌরবের বড়াই করতে বসি তবে আমাদের ধিক। অহংকার করবার জন্তে সত্যের ব্যবহার সত্যের অবমাননা । আমার মনের একাত্ত প্রার্থনা ७S २