পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩২৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হিন্দুমুসলমান করছে। কালিদাস এই উপলক্ষ্যেই বলেছিলেন : মেঘালোকে তৰতি মুখিনোইপ্যন্তৰাবৃত্তিচেতঃ । অগুথাবৃত্তি হচ্ছে মানববৃত্তির গণ্ডির বাইরের বৃত্তি। এই বৃত্তি আমাদের সেই সুদূর কালে নিয়ে যায় যখন প্রাণের খেলা চলছে, মনের মাস্টারি শুরু হয় নি— আজ যেখানে ইস্কুলের মোট খাম উঠেছে সেখানে যখন ঘাসের ফুলে ফুলে প্রজাপতি উড়ে উড়ে বেড়াচ্ছে । যাই হোক, এই সময়টাতে ঘন মেঘে মধ্যাহ্ন ছায়াবৃত, মাঠে মাঠে বাদল-হাওয়া ভে পু বাজিয়ে চলেছে, আর ছোটো ছোটো চঞ্চল জলধারা ইস্কুলছাড়া ছাত্রীদের আকারণ হাসির মতো চার দিকে খিল্‌খিল্‌ করছে । আজ ৭ই আষাঢ়, কৃষ্ণ একাদশী তিথি, আজ অম্বুবাচী আরম্ভ হল। নামটা সার্থক হয়েছে, সমস্ত প্রকৃতি আজ জলের ভাষায় মুখর হয়ে উঠল। ঘন মেঘের চজাতপের ছায়ায় আজ অম্বুবাচীর গীতিকবিতার আসর বসেছে ; তৃণসভার গায়েনের দল ঝিল্লিরাও নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে, আর তার সঙ্গে যোগ দিয়েছে মত্তদাছুরি । এ আসরে আমার আসন পড়ে নি যে তা মনেও কোরো না । মেঘের ডাকের জবাব না দিয়ে চুপ ক’রে যাব, আমি এমন পাত্র নই। মেঘের পর মেঘের মতো আমারও গান চলেছে দিনের পর দিন ; তার কোনো গুরুত্ব নেই, কোনো উদ্দেশু নেই ; মেঘ যেমন ‘ধূমজ্যোতিঃসলিলমরুতাং সন্নিপাত:’, সেও তেমনি নিরর্থক উপাদানে তৈরি। ঠিক যখন আমার জানলার ধারে বসে গুঞ্জনধ্বনিতে গান ধরেছি— অাজ নবীন মেঘের সুর লেগেছে আমার মনে, আমার ভাবনা যত উতল হল আকারণে— ঠিক এমন সময় সমুত্রপার হতে তোমার প্রশ্ন এল, ভারতবর্ষে ছিন্দুমুসলমান-সমস্তার সমাধান কী। হঠাৎ মনে পড়ে গেল, মানবসংসারে ●>総