পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩২৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর দ্বারা তার সাধনাকে রূপমূর্তি দিয়ে তাকে তিনি সজীব করে গেছেন। তাই তার মৃত্যুও আলোকের মতো হয়ে উঠে তার শ্রদ্ধার সেই ভয়হীন ক্ষয়হীন ক্লাস্তিহীন অমৃতচ্ছবিকে উজ্জ্বল করে প্রকাশ করেছে। সত্যের প্রতি শ্রদ্ধার এই ভূমানন্দকে তার চরিত্রের মধ্যে আজ আমরা যেন সার্থক আকারে দেখতে পারি। এই সার্থকতা বাহ ফলে নয়, নিজেরই অকৃত্রিম বাস্তবতায় । অপঘাতের এই-যে আঘাত শুধু মহাপুরুষেরাই একে সহ করতে পারেন, শুধু তাদের পক্ষেই এর কোনো অর্থ নেই। যারা মরণকে ক্ষুদ্র স্বার্থের উর্ধ্বে তুলতে পেরেছেন, জীবন থাকতেই তারা অমৃতলোকে উত্তীর্ণ। কিন্তু, মৃত্যুর গুপ্তচর তো শ্রদ্ধানন্দের আয়ু হরণ করেই ফিরে যাবে না। ধর্মবিদ্রোহী ধর্মান্ধতার কাধে চড়ে রক্তকলুষিত যে বীভৎসতাকে নগরের পথে পথে সে বিস্তার করেছিল অনতিকাল পূর্বেই, সে তো আমরা দেখেছি। সে যাদের নষ্ট করেছে তাদের তো কিছুই অবশেষ থাকে নি। তাদের মৃত্যু যে নিরতিশয় মৃত্যু, তাদের ক্ষতি যে চরম ক্ষতি । তাদের ঘরে সস্তানহীন মাতার ক্ৰন্দনে সাস্বনা নেই, বিধবার দুঃখে শাস্তি নেই। এই-যে নিষ্ঠুরতা যা সমস্তকে নিঃশেষে চিতাভষ্মে সমাধা করে, তাকে তো সহ করতে পারা যায় না । দুর্বল স্বল্পপ্রাণ যারা, যাদের জনসাধারণ বলি, তারা এত বড়ো হিংসার বোঝা বইবে কী ক’রে ? এখন দেখতে পাচ্চি, আবার যমরাজের সিংহদ্বার উদঘাটিত হল, আবার প্রতিবেশীতে প্রতিবেশীতে হত্যার প্রতিযোগিতা আরম্ভ হল। এর দুঃখ লইবে কে ? বিধাতা যখন দুঃখকে আমাদের কাছে পাঠান তখন সে একটি প্রশ্ন নিয়ে আসে । সে আমাদের জিজ্ঞাসা করে, তোমরা আমাকে কী ভাবে গ্রহণ করবে। বিপদ আলবে না এমন হতে পারে না— সংকটের সময় ૭૨ ૦