পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


স্বামী শ্রদ্ধানন্দ উপস্থিত হয়, আশু উদ্ধারের উপায় থাকে না, কিন্তু কী ভাবে বিপদকে আমরা ব্যবহার করি তারই উপরে প্রশ্নের সন্থত্তর নির্ভর করে । এইযে পাপ কালো হয়ে দেখা দিল, এর ভয়ে ভীত হব না এর কাছে মাথা নত করব ? না সে পাপের বিরুদ্ধে পাপকে দাড় করাব ? মৃত্যুর আঘাত, দুঃখের আঘাতের উপর রিপুর উন্মত্ততাকে জাগ্রত করব ? শিশুর আচরণে দেখা যায়, সে যখন আছাড় খায় তখন মেজেকে আঘাত করতে থাকে। যতই আঘাত করে মেজে ততই সে আঘাত ফিরিয়ে দেয় । এ শিশুর ধর্ম। কিন্তু, যদি কোনো বয়স্ক লোক হোচট খায় তবে সে চিস্তা করে, বাধাটা কোথায়— বাধা যদি থাকে তো সেট লঙ্ঘন বা সেটাকে অপসারণ করতে হবে। সচরাচর দেখতে পাই বাহির থেকে আকস্মিক আঘাতের চমকে মামুষের শিশুবুদ্ধি ফিরে আসে। সে তখন মনে করে, ধৈর্য অবলম্বন করাই কাপুরুষতা, ক্রোধের প্রকাশ পৌরুষ । আজকের দিনে স্বভাবতই ক্রোধের উদয় হয়ে থাকবে, সে কথা স্বীকার করি । মানবধর্ম তো একেবারে ছড়িতে পারি নে। কিন্তু ক্রোধ দ্বারা যদি অভিভূত হই তবে সেও মানবধর্ম নয়। আগুন লেগে পাড়। যদি নিরুপায়ে ভষ্ম হয়ে যায় তবে অfগুনের রুদ্রতা নিয়ে আলোচনা করা বৃথা । তখন যদি দোষ কাউকে দিতে হয় তো আগুনকে যেন না দিই। বিপদের কারণ সর্বত্রই থাকে, তার প্রতিকারের উপায় যারা রাখে না তারাই দোষী। যাদের ঘর পুড়েছে তারা যদি বলতে পারে যে “কূপ খনন করে রাখি নি সেই অপরাধের শাস্তি পেলেম', তা হলে ভবিষ্যতে তাদের ঘর পোড়ার আশঙ্কা কমে । আমাদেরও আজকে তাই বলতে হবে । অপরাধের গোড়ার কথাটা ভাবা চাই । শুনে হয়তো লোকে বলবে, না, এ তো ভালো লাগছে না ; একটা প্রলয়-ব্যাপার বাধিয়ে দিতে পারলে সাস্বনা পাওয়া যায়। ভারতবর্ষের অধিবাসীদের দুই মোট ভাগ, হিন্দু ও মুসলমান। যদি ー&> \రి:RS