পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৩১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


স্বামী শ্রদ্ধানন্দ আমাদের শিক্ষা হয় নি । পরস্পরের মধ্যে বিচ্ছেদের ডোবাটাকে আমরা সমাজের দোহাই দিয়ে গভীর করে রেখেছি। সেটাকে রক্ষা করেও লাফ দিয়ে সেট পার হতে হবে, এমন আবদার চলে না। এমন কথা উঠতে পারে যে, ডোবা তে। সনাতন ডোবা, কিন্তু আজ তার মধ্যে যে দুশ্চিকিংস্ত বিভ্ৰাট ঘটছে সেটা তো নুতন, অতএব হাল-আমলের কোনো একটা ভূত আমাদের ঘাড় ভাঙবার গোপন ফন্দি করেছে ; ডোবার কোনো দোষ নেই, ওটা ব্ৰঞ্চার বুড়ো আঙুলের চাপে তৈরি। একটি কথা মনে রাখতে হবে যে, ভাঙা গাড়িকে যখন গাড়িখানায় রাখা যায় তখন কোনো উপদ্রব হয় না । সেটার মধ্যে শিশুরা খেলা করতে পারে, চাই কি মধ্যাহের বিশ্রামাবাসও হতে পারে। কিন্তু, যখনই তাকে টানতে ষাই তখন তার জোড় ভাঙা অংশে অংশে সংঘাত উপস্থিত হয়। যখন চলি নি, রাষ্ট্রসাধনার পথে পাশাপাশি রয়েছি, গ্রামের কর্তব্য পালন করেছি, তখন তো নাড়া খাই নি। আমি যখন আমার জমিদারি সেরেস্তায় প্রথম প্রবেশ করলেম তখন এক দিন দেখি, আমার নায়েৰ তার বৈঠকখানায় এক জায়গায় জাজিম খানিকট তুলে রেখে দিয়েছেন । যখন জিজ্ঞেস করলেম, এ কেন, তখন জবাব পেলেম, ষেসব সন্মানী মুসলমান প্রজা বৈঠকখানায় প্রবেশের অধিকার পায় তাদের জন্ত ঐ ব্যবস্থা। এক তক্তপোষে বসাতেও হবে অথচ বুঝিয়ে দিতে হবে আমরা পৃথক । এ প্রথা তো অনেক দিন ধরে চলে এসেছে ; অনেক দিন মুসলমান এ মেনে এসেছে, হিন্দুও মেনে এসেছে। জাজিমতোলা আসনে মুসলমান বসেছে, জাজিম-পাত আসনে অন্তে বলেছে। তার পর ওদের ডেকে এক দিন বলেছি, আমরা ভাই, তোমাকেও আমার সঙ্গে ক্ষতি স্বীকার করতে হবে, কারাবাস ও মৃত্যুর পথে চলতে হৰে ? তখন হঠাৎ দেখি অপর পক্ষ লাল-টক্টকে নতুন ফেজ মাথায় দিয়ে বলে, আমরা পৃথক । আমরা বিক্ষিত হয়ে বলি, রাষ্ট্র ব্যাপারে পরম্পর পাশে כ\sס\