পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৩২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর এসে দাড়াবার বাধাটা কোথায় ? বাধা ঐ জাজিম-তোলা আসনে বহু দিনের মস্ত ফাকটার মধ্যে । ওটা ছোটো নয় । ওখানে অকুল অতল কালাপানি। বক্তৃতামঞ্চের উপর দাড়িয়ে চেচিয়ে ডাক দিলেই পার হওয়া যায় না । আজকের দিনে রাষ্ট্রশক্তির উদবোধন হয়েছে বলেই যত ভেদ, যত ফাক, সব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সেইজন্তই মার খাচ্ছি। এই মার নানা রূপে আসে— কিন্তু, আজ বড়ো করে দেখা দিল এই মহাপুরুষের মৃত্যুতে। মহাপুরুষেরা এই মারকে বক্ষে গ্রহণ করে এর একান্ত বীভৎসতার পরিচয় দেন । তাতেই আমাদের চৈতন্ত হয়। এই-যে চৈতন্ত এসেছে, রিপুর বশবর্তী হয়ে কি এই শুভ অবসরকে নষ্ট করব না শুভবুদ্ধিদাতাকে বলব যেখানেই ভেদ ঘটিয়েছি সেখানেই পাপের বেদি গেখেছি, তার থেকেই বাচাও’ ? এই-যে রুদ্রবেশে পাপ দেখা দিল, এ তো ভালোই হয়েছে এক ভাবে । আজকে না ভেবে উপায় নেই যে, কী করে একে চিরকালের মতো পরাভূত করা যেতে পারে। প্রশ্ন উঠতে পারে, আগু আমরা কোন উপায় অবলম্বন করব। সহসা এ প্রশ্নের একটা পাক-রকম উত্তর দিই এমন শক্তি আমার নেই। পরীক্ষা আরম্ভ করে ক্রমে ক্রমে সে উপায় এক দিন পাবই। আজকে সেই পরীক্ষা-আরম্ভের আয়োজন। আজকে দেখতে হবে, আমাদের হিন্দুসমাজের কোথায় কোন ছিদ্র, কোন পাপ আছে ; অতি নির্মমভাবে তাকে আক্রমণ করা চাই। এই উদ্দেশু মনে নিয়ে আজি হিন্দুসমাজকে আহবান করতে হবে ; বলতে হবে, "পীড়িত হয়েছি আমরা, লজ্জিত হয়েছি, বাইরের আঘাতের জন্ত নয়, আমাদের ভিতরের পাপের জন্ত। এলো আজ সেই পাপ দূর করতে সকলে মিলি। আমাদের পক্ষে এ বড়ো সহজ কথা নয় । কেননা, অস্তরের মধ্যে বহু কালের অভ্যস্ত ভেদবুদ্ধি, বাইরেও বহু দিনের গড়া অতি কঠিন ভেদের প্রাচীর। মুসলমান ૭૨ 8