পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৩৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


স্বামী শ্রদ্ধানন্দ যখন কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে মুসলমানসমাজকে ডাক দিয়েছে, সে কোনো বাধা পায় নি— এক ঈশ্বরের নামে ‘আল্লাহে আকৃবর’ বলে সে ডেকেছে । আর আজ আমরা যখন ডাকৰ ‘হিন্দু এলো’, তখন কে আসবে ? অামাদের মধ্যে কত ছোটো ছোটো সম্প্রদায়, কত গওঁী, কত প্রাদেশিকতা— এ উৰ্ত্তীর্ণ হয়ে কে আসবে ? কত বিপদ গিয়েছে। কই একত্র তো হই নি । বাহির থেকে যখন প্রথম আঘাত নিয়ে এল মহম্মদ ঘোরী, তখন হিন্দুরা সে আসন্ন বিপদের দিনেতেও তো একত্র হয় নি। তার পর যখন মন্দিরের পর মন্দির ভাঙতে লাগল, দেবমূর্তি চুর্ণ হতে লাগল, তখন তারা লড়েছে, মরেছে, খণ্ড খণ্ড ভাবে যুদ্ধ করে মরেছে । তখনো একত্র হতে পারল না । খণ্ডিত ছিলেম বলেই মেরেছে, যুগে যুগে এই প্রমাণ আমরা দিয়েছি। কখনো কখনো ইতিহাস উদঘাটন করে অন্য প্রমাণ পাবার চেষ্টা করি বটে ; বলি, শিখরা তো এক সময় বাধা ঘুচিয়েছিল। শিখরা যে বাধা ঘুচিয়েছিল সে তো শিখধর্ম দ্বারাই। পাঞ্জাবের কোথাকার জাঠ, কোথাকার কোন জাতি সব, শিখধর্মের আহবানে একত্র হতে পেরেছিল ; বাধাও দিতে পেরেছিল, ধর্মকেও রক্ষা করতে এক হয়ে দাড়িয়েছিল। শিবাজি এক সময় ধর্মরাজ্যস্থাপনের ভিত গেড়েছিলেন । তার যে অসাধারণ শক্তি ছিল তদার তিনি মারাঠাদের একত্র করতে পেরেছিলেন । সেই সম্মিলিত শক্তি ভারতবর্ষকে উপক্রত করে তুলেছিল। অশ্বের সঙ্গে অশ্বারোহীর যখন সামঞ্জস্য হয় কিছুতেই সে অশ্ব থেকে পড়ে না ; শিবাজির হয়ে সে দিন যার লড়েছিল তাদের সঙ্গে শিবাজির তেমনি সামঞ্জস্ত হয়েছিল । পরে আর সে সামঞ্জস্ত রইল না, পেশোয়াদের মনে ও আচরণে ভেদবুদ্ধি, খণ্ড খও স্বার্থধুদ্ধি তীক্ষ হয়ে ক্ষণকালীন রাষ্ট্রবন্ধনকে টুকরো টুকরো করে দিলে। আমার কথা এই যে, আমাদের মধ্যে এই-যে পাপ পুবে রেখেছি এতে কি শুধু আমাদেরই অকল্যাণ ? সে পাপে কি আমরা প্রতিবেশীদের vరిషి 6