পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৩৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর প্রতি অবিচার করি নে ? তাদের মধ্যে হিংসা জাগিয়ে তুলি নে ? যে ছবল সেই প্রবলকে প্রলুব্ধ করে পাপের পথে টেনে আনে। পাপের প্রধান আশ্রয় দুর্বলের মধ্যে। অতএব যদি মুসলমান মারে আর আমরা পড়ে পড়ে মার খাই, তবে জানৰ, এ সম্ভব করেছে শুধু আমাদের দুর্বলতা। আপনার জন্তেও, প্রতিবেশীর জন্তেও আমাদের নিজেদের দুর্বলতা দূর করতে হবে। আমরা প্রতিবেশীদের কাছে আপিল করতে পারি ‘তোমরা ক্রুর হোয়ে না, তোমরা ভালে হও, নরহত্যার উপরে কোনো ধর্মের ভিত্তি হতে পারে না”— কিন্তু সে আপিল যে দুর্বলের কান্না । বায়ুমণ্ডলে বাতাস লঘু হয়ে এলে ঝড় যেমন আপনিষ্ট আসে, ধর্মের দোহাই দিয়ে কেউ তাকে বাধা দিতে পারে না, তেমনি দুর্বলতা পুষে রেখে দিলে সেখানে অত্যাচার আপনিই আলে— কেউ বাধা দিতে পারে না । কিছু ক্ষণের জন্য হয়তো একটা উপলক্ষ্য নিয়ে পরস্পর কৃত্রিম বন্ধুতাবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারি, কিন্তু চিরকালের জন্য তা হয় না। যে মাটিতে কণ্টকতরু ওঠে সে মাটিকে যত ক্ষণ শোধন না করা হয় তত ক্ষণ তো কোনো ফল হবে না। আপনার লোককেও যে পর করেছে, পরের সঙ্গেও যার আত্মীয়তা নেই, সে তো ঘাটে এসেছে, তার ঘর কোথায় ? আর তার শ্বাসই বা কত ক্ষণ ? আজ আমাদের অনুতাপের দিন— আজ অপরাধের ক্ষালন করতে হবে। সত্যিকার প্রায়শ্চিত্ত যদি করি তবেই শক্র আমাদের মিত্র হবে, রুদ্র আমাদের প্রতি প্রসন্ন হবেন । মাঘ ১৩৩৩