পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৩৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হিন্দুমুসলমান জানলেন, এ পাড়ায় তাদের জগতের প্রবেশনিষেধ । বলা বাহুল্য, ছিন্দুসমাজবিধি-অনুসারে এগুজের আচারবিচার টিয়া-ভদ্রলোকের চেয়ে অনেক গুণে অশাস্ত্রীয় । শাসনকর্তার জাত বলে তার জোর আছে, কিন্তু হিন্দু বলে হিন্দুর কাছে আত্মীয়তার জোর নেই। তার সম্বন্ধে হিন্দুর দেবতা পর্যন্ত জাত বাচিয়ে চলেন, স্বয়ং জগন্নাথ পর্যস্ত প্রত্যক্ষদর্শনীয় নন। বৈমাত্র সস্তানও মাতার কোলের অংশ দাৰি করতে পারে— ভারতে বিশ্বমাতার কোলে এত ভাগ কেন ? অনাত্মীয়তাকে অস্থিমজ্জায় আমরা সংস্কারগত করে রেখেছি, অথচ রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে তাদের আত্মীয়তা ন পেলে আমরা বিক্ষিত হই । শোনা গিয়েছে, এবার পূর্ববঙ্গে কোথাও কোথাও হিন্দুর প্রতি উৎপাতে নমপূদ্রর নির্দয়ভাবে মুসলমানদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল । ভাবতে হবে না কি, ওদের দরদ হল না কেন, আত্মীয়তার দায়িত্বে বাধা পড়ল কোথায় ? এই অনাস্ট্রীয়তার অসংখ্য অস্তরাল বহু যুগ ধরে প্রকাশ্বে আমাদের রাষ্ট্রভাগ্যকে ব্যর্থ করেছে এবং আজও ভিতরে ভিতরে আমাদের ছুঃখ ঘটাচ্ছে । স্কোর গলায় যেখানে বলছি, আমরা এক, স্বল্প স্বরে সেখানে অন্তৰ্যামী আমাদের মর্মস্থানে বলে বলছেন, "ধর্মে-কর্মে আচারে-বিচারে এক হবার মতে ঔদার্য তোমাদের নেই।” এর ফল ফলছে ; আর রাগ করছি ফলের উপরে, বীজ বপনের উপরে নয় । যখন ৰঙ্গবিভাগের সাংঘাতিক প্রস্তাব নিয়ে বাঙালির চিত্ত বিক্ষুব্ধ তখন বাঙালি অগত্যা বয়কট-নীতি অবলম্বন করতে চেষ্টা করেছিল । বাংলার সেই ছুদিনের সুযোগে বোম্বাই-মিলওয়ালা নির্মমভাবে তাদের মুনফার অঙ্ক বাড়িয়ে তুলে আমাদের প্রাণপণ চেষ্টাকে প্রতিহত করতে কুষ্ঠিত হন নি। সেই সঙ্গে দেখা গেল, বাঙালি মুসলমান সে দিন আমাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে দাড়ালেন। সেই যুগেই বাংলাদেশে হিন্দুমুসলমানে লজ্জাজনক কুৎসিত কাণ্ডের স্বত্রপাত ছল। অপরাধটা צ9אס\