পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৪১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হিন্দুমুসলমান হিন্তা নিয়ে স্বতন্ত্র কোঠায় স্বতন্ত্র হিসাব চলতে থাকে । সেখানে রাষ্ট্রক সম্পদে সকলেরই অখণ্ড স্বার্থের কথাটা স্বভাবতই মনে থাকে না । এমন দ্বগ্রহে একই গাড়িকে ছটে ঘোড়া ত্ব দিকে টানবার মুশকিল বাধায় । এখন থেকেই অধিকারের ভাগ-বখরা নিয়ে হটগোল জেগেছে । রাষ্ট্রনৈতিক বিষয়বুদ্ধির যোগে গোল-টেবিল পেরিয়েও এই গোল উত্তরোত্তর বাড়বে বই কমবে এমন আশা আছে কি ? বিষয়বুদ্ধির আমলে সহোদর ভাইদের মধ্যেও বচলা বেধে যায়। শেষকালে গুণ্ডাদের হাতেই লাঠিসড়কির যোগে যমের দ্বারে চরম নিম্পত্তির ভার পড়ে । এক দল মুসলমান সম্মিলিত নির্বাচনের বিরুদ্ধে, তার স্বতন্ত্র নির্বাচনরীতি দাবি করেন এবং তাদের পক্ষের ওজন ভারি করবার জন্তে নানা বিশেষ সুযোগের বাটখারা বাড়িয়ে নিতে চান। যদি মুসলমানদের সবাই বা অধিকাংশ একমত হয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচনরীতির দাবি করেন, এবং নিজেদের পক্ষের ওজন বাড়িয়ে নিতে চান, তা হলে এমনতরো দাবি মেনে নিয়েও আপোষ করতে মহাত্মাজি রাজি আছেন বলে বোধ হল। তা যদি হয়, তার প্রস্তাব মাথা পেতে নেওয়াই ভালো । কেননা, ভারতবর্ষের তরফে রাষ্ট্রক যে অধিকার আমাদের জয় করে নিতে হবে তার স্ব স্পষ্ট মূতি এবং সাধনার প্রণালী সমগ্রভাবে তারই মনে আছে। এ পর্যস্ত একমাত্র তিনিই সমস্ত ব্যাপারটাকে অসামান্ত দক্ষতার সঙ্গে প্রবল বাধার ৰিব্ৰুদ্ধে অগ্রসর করে এনেছেন । কাজউদ্ধারের দিকে দৃষ্টি রাখলে শেষ পর্যন্ত তারই হাতে সারখ্যভার দেওয়া সংগত। তবু, এক জনের বা এক দলের ব্যক্তিগত সহিষ্ণুতার প্রতি নির্ভর করে এ কথা ভুললে চলবে না যে, অধিকার-পরিবেষণে কোনো এক পক্ষের প্রতি যদি পক্ষপাত করা হয় তবে সাধারণ মানবপ্রকৃতিতে সেই অবিচার সইবে না, এই নিয়ে একটা অশান্তি নিয়তই মারমুখো হয়ে থেকে যাবে। বস্তুত এটা পরস্পরের বিবাদ মেটাবার পন্থা নয় । \లిలం