পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৪২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর সকলেই যদি একজোট হয়ে প্রসন্নমনে এককোকা আপোষ করতে রাজি হয় তা হলে ভাবনা নেই । কিন্তু মানুষের মন । তার কোনো-একটা তারে যদি অত্যস্ত বেশি টান পড়ে তবে সুর যায় বিগড়ে, তখন সংগীতের দোহাই পাড়লেও সংগত মাটি হয় । ঠিক জানি না, কী ভাবে মহাত্মাজি এ সম্বন্ধে চিস্তা করছেন । হয়তো গোল-টেবিল বৈঠকে আমাদের সম্মিলিত দাবির জোর অক্ষুণ্ণ রাখাই আপাতত সব চেয়ে গুরুতর প্রয়োজন বলে তার মনে হতে পারে। দুই পক্ষই আপন আপন জিদে সমান অটল হয়ে বসলে কাজ এগোবে না, এ কথা সত্য। এ ক্ষেত্রে এক পক্ষে ত্যাগ স্বীকার করে মিটমাট হয়ে গেলে উপস্থিত রক্ষা হয়। একেই বলে ডিপ্লোম্যালি। পলিটিকৃলে প্রথম থেকেই ষোলো-আনা প্রাপ্যের উপর চেপে বসলে ষোলে। আনাই খোয়াতে হয়। যার অদূরদর্শী কৃপণের মতো অত্যন্ত বেশি টানাটানি না করে আপোষ করতে জানে তারাই জেতে। ইংরেজের এই গুণ আছে, নৌকোডুবি বাচাতে গিয়ে অনেকটা মাল ইংরেজ জলে ফেলে দিতে পারে । আমার নিজের বিশ্বাস, বর্তমান আপোষের প্রস্তাবে ইংরেজের কাছে আমরা যে প্রকাও ক্ষতিস্বীকার দাবি করছি সেটা যুরোপের আর-কোনে) জাতির কাছে একেবারেই খাটত না, তারা আগাগোড়াই ঘুষি উচিয়ে কথাটা সম্পূর্ণ চাপা দেবার চেষ্টা করত। রাষ্ট্রনৈতিক ব্যাপারে ইংরেজের সুবুদ্ধি বিখ্যাত ; ইংরেজ সবখালির দিকে তাকিয়ে অনেকখানি সহ করতে পারে। এই বুদ্ধির প্রয়োজন যে আমাদের নেই, এ কথা গোয়ারের কথা ; আখেরে গোয়ারের হার হয়ে থাকে। রাষ্ট্রক অধিকার সম্বন্ধে একগুঁয়েভাবে দর-কষাকষি নিয়ে হিন্দু-মুসলমানে মন-কষাকষিকে অত্যন্ত বেশি দূর এগোতে দেওয়া শত্রু পক্ষের আনন্দবর্ধনের প্রধান উপায় । আমার বক্তব্য এই যে, উপস্থিত কাজ-উদ্ধারের খাতিরে আপাতত లిలిg