পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৪৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হিন্দুমুসলমান নিজের দাবি থাটো করেও একটা মিটমাট করা সম্ভব হয় তো হোক, কিন্তু তবু আসল কথাটাই বাকি রইল। পলিটিকসের ক্ষেত্রে बारेत् থেকে যেটুকু তালি-দেওয়া মিল হতে পারে সে মিলে আমাদের চির কালের প্রয়োজন টিকবে না। এমন কি পলিটিকলেও এ তালিটুকু বরাবর অটুট থাকবে এমন আশা নেই, ঐ ফকির জোড়টার কাছে বারে বারেই টান পড়বে। যেখানে গোড়ায় বিচ্ছেদ সেখানে অfগায় জল ঢেলে গাছকে চিরদিন তাজা রাখা অসম্ভব । আমাদের মিলতে হবে সেই গোড়ায়, নইলে কিছুতে কল্যাণ নেই। এত দিন সেই গোড়ার দিকে এক রকমের মিল ছিল। পরস্পরের তফাত মেনেও আমরা পরস্পর কাছাকাছি ছিলুম। সম্প্রদায়ের গণ্ডীর উপর ঠোকরখেয়ে পড়তে হত না,সেটা পেরিয়েও মামুষে মামুষে মিলের যথেষ্ট জায়গা ছিল। হঠাৎ এক সময়ে দেখা গেল, দুই পক্ষই আপন ধর্মের অভিমানকে উচিয়ে তুলতে লেগেছে। যত দিন আমাদের মধ্যে ধর্মবোধ সহজ ছিল তত দিন গোড়ামি থাকা সত্ত্বেও কোনো হাঙ্গাম বাৰে নি। কিন্তু এক সময়ে যে কারণেই হোক ধর্মের অভিমান যখন উগ্র হয়ে উঠল তখন থেকে সম্প্রদায়ের কাটার বেড়া পরম্পরকে ঠেকাতে ও খোচাতে শুরু করলে । আমরাও মসজিদের সামনে দিয়ে প্রতিমা নিয়ে যাবার সময় কিছু অতিরিক্ত জিদের সঙ্গে ঢাকে কাঠি দিলুম, অপর পক্ষেও কোরবানির উৎসাহ পূর্বের চেয়ে কোমর বেঁধে বাড়িয়ে তুললে, সেটা আপন আপন ধর্মের দাৰি মেটাবার খাতির নিয়ে নয়, পরস্পরের ধর্মের অভিমানকে আঘাত দেবার স্পর্ধ নিয়ে । এই-সমস্ত উৎপাতের শুরু হয়েছে শহরে, যেখানে মামুষে মামুষে প্রকৃত মেলামেশা নেই বলেই পরস্পরের প্রতি দরদ থাকে না । ধর্মমত ও সমাজরীতির সম্বন্ধে হিন্দু-মুসলমানে শুধু প্রভেদ নয়, বিরুদ্ধতা আছে, এ কথা মানতেই হবে । অতএব আমাদের সাধনার も○●