পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৫১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্রনাথের রাষ্ট্রনৈতিক মত তবু এই ক্রটিকেও উপেক্ষা করা চলে, কিন্তু এ কথা বলতেই হল যে, নানা লেখা থেকে বাক্য চয়ন করে আমার মতের যে-একটা মূর্তি দেওয়া হয়েছে তাতে অংশত হয়তো সব কথাই আছে কিন্তু সমগ্রত মোট কথাটা প্রকাশ পায় নি। এ রকম হওয়াটা বোধ করি অবশুভাৰী । কোন কথাটার গুরুত্ব বেশি, কোনটার কম, লেখক সেটা স্বভাৰত নিজের অভিমত ও রুচির দ্বারা স্থির করেন এবং সেই ভাবেই সমস্তটাকে গড়ে Cötび研F ] এই উপলক্ষ্যে আমার সমস্ত চিত্তার ক্ষেত্রের উপর নিজেকে একবার দৃষ্টিক্ষেপ করতে হল। ঐ রাষ্ট্রক সমস্ত সম্বন্ধে আমি কী ভেবেছি, কী বলতে চেয়েছি, তা নিজেই কুড়িয়ে এনে সংক্ষেপে অঁাটি বাধবার চেষ্টা করা ভালো মনে করি । এজন্তে দলিল ঘঁটিব না, নিজের স্মৃতির উপরিতলে স্পষ্ট হয়ে যা জেগে অাছে তারই অমুসরণ করব । ) বালককালের অনেক প্রভাব জীবনপথে শেষ পর্যন্ত সঙ্গী হয়ে থাকে ; প্রত্যক্ষ না থাকলেও তাদের প্রণোদনা থেকে যায়। আমাদের ব্রান্ধপরিবার আধুনিক হিন্দুসমাজের বাহ আচারবিচার ক্রিয়াকর্মের নানা আবপ্তিক বন্ধন থেকে বিযুক্ত ছিল । আমার বিশ্বাস, সেই কিছু-পরিমাণ দুরত্ব-বশতই ভারতবর্ষের সর্বজনীন সর্বকালীন অাদর্শের প্রতি আমার গুরুজনদের শ্রদ্ধা ছিল অত্যস্ত প্রৰল। সেই গৌরববোধ সে দিন নানা আকারে আমাদের বাড়ির অস্তঃপ্রকৃতি ও বাইরের ব্যবহারকে অধিকার করেছে। তখনকার দিনে প্রচলিত আনুষ্ঠানিক হিন্দুধর্মের প্রতি ধাদের আস্থা বিচলিত হ’ত, তাদের মনকে হয় যুরোপের অষ্টাদশ শতাব্দীর বিশেষ ছাদের নাস্তিকতা অথবা খৃস্টানধর্মপ্রবণতা পেয়ে বসত। কিন্তু এ কথা সকলের জানা যে, লে কালে আমাদের পরিবারে ভারতেরই শ্রেষ্ঠ আদর্শের অনুসরণ করে ভারতের ধর্ম সংস্কার করবার উৎসাহ সর্বদা জাগ্রত ছিল। Wogo