পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর মহাজনে যেন গত: স পন্থাঃ, এ উপদেশ পারতপক্ষে কেহ মানে না । তাহার মহা জনটি যে রাস্ত দ্বিয়ে চলে মানুষ সে রাস্তায় চলা একেবারে ছাড়িয়া দেয় । ইহার কারণ এ নয় যে, স্বভাবতই মামুষের মনটা বিকৃত । ইহার কারণ এই যে, মহাজনকে মুদ দিতে হয় ; সে সুদ আসলকে ছাড়াইয়া যায়। হিতৈষী যে সুদটি আদায় করে সেটি মামুষের আত্মসন্মান ; সেটিও লইবে আবার কৃতজ্ঞতাও দাবি করিবে, সে যে শাইলকের বাড়া হইল । সেইজন্ত, লোকহিত করায় লোকের বিপদ আছে, সে কথা ভুলিলে চলিবে না । লোকের সঙ্গে আপনাকে পৃথক রাখিয়া যদি তাছার হিত করিতে যাই, তবে সেই উপদ্রব লোকে সহ না করিলেই তাদের ছিত হুইবে । অল্প দিন হইল, এ সম্বন্ধে আমাদের একটা শিক্ষা হুইয়। গেছে । ষে কারণেই হউক যেদিন স্বদেশী নিমকের প্রতি ছঠাং আমাদের অত্যন্থ একটা টান হইয়াছিল, সেদিন আমরা দেশের মুসলমানদের কিছু অস্বাভাবিক উচ্চস্বরেই আত্মীয় বলিয়া, তাই বলিয়া ডাকাডাকি শুরু করিয়াছিলাম । সেই স্নেহের ডাকে যখন তাহারা অশ্রাগদগদ কণ্ঠে সাড়া দিল না তখন আমরা তাহদের উপর ভারি রাগ করিয়াছিলাম। ভাবিয়াছিলাম, এটা নিতান্তই ওদের শয়তানি । এক দিনের জন্যও ভাবি নাই, আমাদের ডাকের মধ্যে গবুজ ছিল কিন্তু সত্য ছিল না । মামুষের সঙ্গে মামুষের যে একটা সাধারণ সামাজকতা আছে, যে সামাজিকতার টানে আমরা সহজ প্রতির বশে মানুষকে ঘরে ডাকিয়া আনি, তাছার সঙ্গে বলিয়া খাই, যদি বা তাহার সঙ্গে আমাদের পার্থক্য থাকে সেটাকে অত্যন্ত স্পষ্ট করিয়া দেখিতে দিই না— সেই নিতান্ত সাধারণ সামাজিকতার ক্ষেত্রে বাছাকে ·ළු •