পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৬৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নারী পড়েছে । যে-সকল দেশ আপন আপন ভৌগোলিক ও রাক্টিক প্রাচীরের মধ্যে একাস্ত বদ্ধ ছিল তাদের সেই বেড়া আজ আর তাদের তেমন করে ধিরে রাখতে পারে না— তারা পরস্পর পরম্পরের কাছে প্রকাশিত হয়ে পড়েছে। স্বতই অভিজ্ঞতার ক্ষেত্র প্রশস্ত হয়েছে, দৃষ্টিসীমা চিরাভ্যস্ত দিগগু পেরিয়ে গেছে । বাহিরের সঙ্গে সংঘাতে অবস্থার পরিবর্তন ঘটছে, নূতন নূতন প্রয়োজনের সঙ্গে আচারবিচারের পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে পড়ছে । আমাদের বাল্যকালে ঘরের বাইরে যাতায়াতের আবশুকে মেয়েদের ছিল পান্ধির যুগ । মানী ঘরে সেই পাস্কির উপরে পড়ত ঘেটাটোপ। বেথুন স্কুলে যে মেয়েরা সবপ্রথমে ভর্তি হয়েছিলেন তার মধ্যে অগ্রণী ছিলেন আমার বড়দিদি । তিনি দ্বারখোলা পাস্কিতে ইস্কুলে যেতেন, সেদিনকার সন্ত্রাস্তবংশের আদর্শকে সেট। অল্প পীড়া দেয় নি। সেই একবস্ত্রের দিনে সেমিজ পরাট নির্লজ্জতার লক্ষণ ছিল । শালীলতার প্রচলিত রীতি রক্ষা করে রেলগাড়িভে যাতায়াত করা সহজ ব্যাপার ছিল না । আজ সেই ঢাকা পান্ধির যুগ বহু দূরে চলে গেছে । মৃদ্ধপদে বায় নি, দ্রুতপদেই গেছে। বাইরের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এ পরিবর্তন আপনিই ঘটেছে— এ নিয়ে কাউকে সভাসমিতি করতে হয় নি । মেয়েদের বিবাহের বয়স দেখতে দেখতে এগিয়ে গেল, সেও হয়েছে সহজে । প্রাকৃতিক কারণে নদীতে জলধারার পরিমাণ যদি বেড়ে যায় তবে তার তটভূমির সীমা আপনিই হটে যেতে থাকে। মেয়েদের জীবনে আজ সকল দিক থেকেই স্বতই তার তটের সীম দূরে চলে যাচ্ছে । নদী উঠছে মহানদী হয়ে । এই-যে বাহিরের দিকে ব্যবহারের পরিবর্তন এ তো বাইরেই থেকে বায় না । অস্তরপ্রকৃতির মধ্যেও এর কাজ চলতে থাকে। মেয়েদের \ot a