পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৬৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর । যে মনোভাব বদ্ধ সংসারের উপযোগী, মুক্ত সংসারে সে তো অচল হয়ে থাকতে পারে না। আপনিই জীবনের প্রশস্ত ভূমিকায় দাড়িয়ে তার মন বড়ো করে চিস্তা করতে, বিচার করতে আরম্ভ করে । তার পূর্বতন সংস্কারগুলিকে যাচাই করার কােজ আপনিই শুরু হতে থাকে। এই অবস্থায় লে নানা রকম ভুল করতে পারে, কিন্তু বাধায় ঠেকতে ঠেকতে সে ভুল উত্তীর্ণ হতে হবে। সংকীর্ণ সীমায় পূর্বে মন যে রকম করে বিচার করতে অভ্যস্ত ছিল সে অভ্যাস অঁাকড়ে থাকলে চারি দিকের সঙ্গে পদে পদে অসামঞ্জস্য আনতে থাকবে । এই অভ্যাস-পরিবর্তনে দুঃখ আছে, বিপদও আছে ; কিন্তু সেই ভয় ক’রে আধুনিক কালের স্রোতকে পিছনের দিকে ফিরিয়ে দেওয়া যায় না । গৃহস্থালির ছোটো পরিধির মধ্যে মেয়েদের জীবন যখন আবদ্ধ ছিল তখন মেয়েলি মনের স্বাভাবিক প্রবৃত্তিগুলি নিয়ে সহজেই তাদের কাজ চলে যেত। এজন্তে তাদের বিশেষ শিক্ষার দরকার ছিল না বলেই এক দিন স্ত্রীশিক্ষা নিয়ে এতই বিরুদ্ধতা এবং প্রহসনের স্বষ্টি হয়েছে । তখন পুরুষেরা নিজে যে-সব সংস্কারকে উপেক্ষা করত, যে সব মত বিশ্বাস করত না, যে-সকল আচরণ পালন করত না, মেয়েদের বেলায় সেগুলিকে সযত্নে প্রশ্ৰয় দিয়েছে। তার মূলে তাদের সেই মনোবৃত্তি ছিল যে মনোবৃত্তি একেশ্বর শাসনকর্তাদের । তারা জানে, অজ্ঞানের অন্ধ সংস্কারের আবহাওয়ায় যথেচ্ছ শাসনের সুযোগ রচনা করে ; মমুন্মোচিত স্বাধিকার বিসর্জন দিয়েও সস্তুষ্টচিত্তে থাকবার পক্ষে এই মুগ্ধ অবস্থাই অমুকুল অবস্থা । আমাদের দেশের অনেক পুরুষের মনে আজও এই ভাব আছে। কিন্তু কালের সঙ্গে সংগ্রামে তাদের হার মানতেই হবে । কালের প্রভাবে মেয়েদের জীবনের ক্ষেত্র এই-যে স্বতই প্রসারিত হয়ে চলেছে, এই যে মুক্ত সংসারের জগতে মেয়ের আপনিই এসে পড়ছে, এতে ক’রে আত্মরক্ষণ এবং আত্মসম্মানের জন্তে তাদের বিশেষ V2倉b*