পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৬৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নারী ক'রে বুদ্ধির চর্চা, বিস্তার চর্চা, একান্ত আবগুক হয়ে উঠল। তাই দেখতে দেখতে এর বাধা দূর হয়ে চলেছে। নিরক্ষরতার লজ্জা আজ ভদ্র মেয়েদের পক্ষে সকলের চেয়ে বড়ো লজ্জা, পূর্বকালে মেয়েদের ছাতা জুতো ব্যবহারের যে লজ্জা ছিল এ তার চেয়ে বেশি ; বাটনা-বাট কোটনা-কোটা সম্বন্ধে অনৈপুণ্যের অখ্যাতি তার কাছে কিছুই নয়। অর্থাৎ, গার্হস্থ্য বাজার-দরেই মেয়েদের দর, এমন কথা আজকের দিনে বিয়ের বাজারেও ষোলো আন খাটছে না। যে বিস্তার মূল্য সার্বভৌমিক, যা আগু প্রয়োজনের ঐকাস্তিক দাবি ছাড়িয়ে চলে যায়, আজ পাত্রীর মহার্বতা যাচাইয়ের জন্তে অনেক পরিমাণে সেই বিস্তার সন্ধান নেওয়া হয় । এই প্রণালীতেই আমাদের দেশের আধুনিক মেয়েদের মন ঘরের সমাজ ছাড়িয়ে প্রতিদিন বিশ্ব সমাজে উত্তীর্ণ হচ্ছে । প্রথম যুগে এক দিন পৃথিবী আপন তপ্ত নিশ্বাসের কুয়াশায় অবগুষ্ঠিত ছিল, তখন বিরাট আকাশের গ্রহমণ্ডলীর মধ্যে আপন স্থান সে উপলব্ধি করতেই পারে নি। অবশেষে এক দিন তার মধ্যে স্থৰ্যকিরণ প্রবেশের পথ পেল। তখনই সেই মুক্তিতে আরম্ভ হল পৃথিবীর গৌরবের যুগ । তেমনি এক দিন আৰ্দ্ৰ হৃদয়ালুতার ঘন বাম্পাবরণ আমাদের মেয়েদের চিত্তকে অত্যন্ত কাছের সংসারে আবিষ্ট করে রেখেছিল। আজ তা ভেদ ক’রে সেই আলোকরশ্মি প্রবেশ করছে যা মুক্ত আকাশের, বা সর্বলোকের । বহু দিনের যে-সব সংস্কারজড়িমাজালে তাদের চিত্ত আবদ্ধ বিজড়িত ছিল, যদিও আজ তা সম্পূর্ণ কেটে ষায় নি তবু তার মধ্যে অনেকখানি ছেদ ঘটেছে। কতখানি যে, তা আমাদের মতো প্রাচীন বয়স যাদের তারাই জানে । আজ পৃথিবীর সর্বত্রই মেয়ের ঘরের চৌকাঠ পেরিয়ে বিশ্বের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে এলে দাড়িয়েছে। এখন এই বৃহৎ সংসারের দায়িত্ব তাদের NՉԸ 2