পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


লোকহিত আমরা ভাই বলিয়া, আপন বলিয়া মানিতে ন পারি, দায়ে পড়িয়া রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে ভাট বলিয়া যথোচিত সতর্কতার সহিত তাহাকে বুকে টানিবার নাট্যভঙ্গী করিলে সেটা কখনোই সফল হইতে পারে না । "এক মামুষের সঙ্গে আর-এক মানুষের, এক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আর-এক সম্প্রদায়ের তো পার্থক্য থাকেই, কিন্তু সাধারণ সামাজিকতার কাজই এই— সেই পার্থক্যটাকে রূঢ়ভাবে প্রত্যক্ষগোচর লা করা । ধনী দরিদ্রে পার্থক্য আছে কিন্তু দরিদ্র তাহার ঘরে আসিলে ধনী যদি সেই পার্থক্যটাকে চাপ না দিয়া সেইটেকেই অত্যু গ্র করিয়া তোলে, তবে আর যাই হউক, দায়ে ঠেকিলে সেই দরিদ্রের বুকের উপর বাপাইয়া পড়িয়া অশ্রীবর্ষণ করিতে যাওয়া ধনীর পক্ষে না হয় সত্য, না হয় শোভনo হিন্দু মুসলমানের পার্থক্যটাকে আমাদের সমাজে আম %এতই কুত্ৰ ভাবে বেআক্ৰ করিয়া রাখিয়াছি যে, কিছুকাল পূর্বে স্বদেশী অভিযানের দিনে একজন হিন্দু স্বদেশী-প্রচারক এক প্লাস জল খাইবেন বলিয়। তাছার মুসলমান সহযোগীকে দাওয়া হইতে নামিয়া বাইতে বলিতে কিছুমাত্র সংকোচ বোধ করেন নাই । কাজের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার বশে মানুষ মানুষকে ঠেলির রাখে, অপমানও করে— তাহাতে বিশেষ ক্ষতি হয় না। কুস্তির সময়ে কুস্তিগিরদের গায়ে পরম্পরের পা ঠেকে, তাছার ছিসাব কেছ জমাইয়া রাখে না ; কিন্তু সামাজিকতার স্থলে কথায় কথায় কাছারে গায়ে পা ঠেকাইতে থাকিলে তাহা তোলা শক্ত হয় । আমরা বিদ্যালয়ে ও আপিলে প্রতিযোগিতার ভিড়ে মুসলমানকে জোরের সঙ্গে ঠেলা দিয়াছি ; সেটা সম্পূর্ণ প্রীতিকর নহে তাছা মানি, তবু সেখানকার ঠেলাঠেলিট। গায়ে লাগিতে পারে, হৃদয়ে লাগে না । কিন্তু সমাজের অপমানটা গায়ে লাগে না, হৃদয়ে লাগে। কারণ, সমাজের উদ্দেশ্রই এই যে, পরস্পরের পার্থক্যের উপর স্বশোভন সামঞ্জস্তের আস্তরণ ৰিছাইয়া দেওয়া । wo