পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৭১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কনগ্রেস so ফৌজের চিত্তদৈন্তকে বার বার ধিক্কার দিয়েছি, সে তুমি জান। হঠাৎ সেই তামসিকতার মধ্যে দেশের মুগু প্ৰাণে কে ছুইয়ে দিলে সোনার কাঠি, জাগিয়ে দিলে একমাত্র আত্মশক্তির প্রতি ভরসাকে, প্রচার করলে অহিংস্ৰ সাধনাকেই নিভাক বীরের সাধনারূপে । নব জীবনের তপস্তার সেই প্রথম পর্ব আজও সম্পূর্ণ হয় নি, আজও এ রয়েছে তারই হাতে যিনি একে প্রবর্তিত করেছেন। শিবের তপোণ্ডুমিতে নন্দী দাড়িয়ে ছিলেন ওষ্ঠ্যধরে তর্জনী তুলে, কেননা তপস্তা তখনো শেষ হয় নি— বাইরের অভিঘাতে তাকে ভাঙতে গিয়ে অগ্নিকাও হয়েছিল । এই তো গেল এক পক্ষের কথা, অপর পক্ষের সম্বন্ধেও ভাবনার কারণ প্রবল হয়ে উঠেছে। কনগ্রেস যত দিন আপন পরিণতির আরম্ভযুগে ছিল, তত দিন ভিতর দিক থেকে তার আশঙ্কার বিষয় অল্পই ছিল। এখন সে প্রভূত শক্তি ও খ্যাতি সঞ্চয় করেছে, শ্রদ্ধার সঙ্গে তাকে স্বীকার করে নিয়েছে সমস্ত পৃথিবী । সে কালের কনগ্রেস ষে রাজদরবারের রুদ্ধ দ্বারে বৃথা মাথা খোড়াখুড়ি করে মরত আজ সেই দরবারে তার সম্মান অবারিত, এমন কি সেই দরবার কনগ্রেসের সঙ্গে আপোষ করতে কুণ্ঠ বোধ করে না । কিন্তু মমু বলেছেন, সন্মানকে বিষের মতো জানবে। পৃথিবীতে যে দেশেই যে-কোনো বিভাগেই ক্ষমতা অতিপ্রভূত হয়ে সঞ্চিত হয়ে ওঠে সেখানেই সে ভিতরে ভিতরে নিজের মারণবিষ উদ্ভাবিত করে। ইম্পিরিয়ালিজম বলে, ফাসিজম বলো, অস্তরে অস্তরে নিজের বিনাশ নিজেই স্বষ্টি করে চলেছে। কনগ্রেসেরও অস্তঃসঞ্চিত ক্ষমতার তাপ হয়তো তার অস্বাস্থ্যের কারণ হয়ে উঠেছে ব’লে সন্দেহ করি । যারা এর কেন্দ্র স্থলে এই শক্তিকে বিশিষ্ট ভাবে অধিকার করে আছেন, সংকটের সময় তাদের ধৈর্যচুতি হয়েছে, বিচারবুদ্ধি সোজা পথে চলে নি। পরস্পরের প্রতি যে শ্রদ্ধা ও সৌজন্ত, বে বৈধতা রক্ষা করলে বখাৰ্থ ভাবে কনগ্রেসের বল ও সন্মান রক্ষা হত, \ONo Go