পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৭৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কনগ্রেস অভিযোগ বাংলা দেশে ব্যাপ্ত। এই নালিশটাকে বিশ্বাস ক’রে নেওয়ার মধ্যে দুর্বলতা আছে । চার দিকে সকলেই বিরুদ্ধ চক্রান্ত করছে, সর্বদা মনের মধ্যে এই রকম সংশয়কে আলোড়িত হতে দেওয়া মনোবিকারের লক্ষণ । দুর্ভাগ্যক্রমে দেশে মিলনকেন্দ্ররূপে কনগ্রেসের প্রতিষ্ঠা হওয়া সত্ত্বেও ভারতবর্ষে এক প্রদেশের সঙ্গে আর-এক প্রদেশের বিচ্ছেদের সাংঘাতিক লক্ষণ নানা আকারেই থেকে থেকে প্রকাশ পাচ্ছে। ভারতবর্ষে হিন্দু ও মুসলমানের অনৈক্য শোচনীয় এবং ভয়াবহ সে কথা বলা বাহুল্য । যে বিচ্ছেদের বাহন স্বয়ং ধর্মমত তার মতো জ্বলঙ্ঘ্য আর-কিছু হতে পারে না । কিন্তু এক প্রদেশের সঙ্গে আর-এক প্রদেশের যে আত্মীয়বুদ্ধির ক্ষণিতা তার কারণ পরম্পরের মধ্যে পরিচয়ের অভাব ও আচারের পার্থক্য। এই দুর্ভাগ্য ভারতবর্ষে আচার ও ধর্ম এক সিংহাসনের শরিক হয়ে মামুষের বুদ্ধিকে আবিল করে রেখেছে। যে দেশের আচার অন্ধ জিদ-ওয়ালা নয়, যে দেশের ধর্মভেদ সামাজিক জীবনকে খও থও করে নি, সেই দেশে রাষ্ট্রেক ঐক্য স্বতই সম্ভবপর হয়েছে। আমাদের দেশে কনগ্রেস সেই সাধারণ সামাজিক ঐক্যের ভিতর থেকে আপনি সজীব ভাবে বেড়ে ওঠে নি । তাকে স্থাপন করা হয়েছে এমন একটা সামাজিক অনৈক্যের উপরে, যে অনৈক্য প্রত্যেক পাঁচ-দশ ক্রোশ অস্তর অতলস্পর্শ গর্ত খুড়ে রেখেছে এবং য়েই গর্তগুলোকে দিনরাত আগলে রয়েছে ধর্মনামধারী রক্ষক मळण । কারণ যাই হোক, প্রদেশে প্রদেশে জোড় মেলে নি । মনে পড়ছে আমার কোন-এক লেখায় ছিল, যে জীর্ণ গাড়ির চাকাগুলো বিশ্লিষ্ট, মড়মড়, ঢলঢল করে যার কোচবাক্স, জোয়ালটা খসে পড়বার মুখে, তাকে যত ক্ষণ দড়ি দিয়ে বেঁধের্সেধে আস্তাবলে রাখা হয় তত ক্ষণ তার ংশ-প্রত্যংশের মধ্যে ঐক্য কল্পনা করে সন্তোষ প্রকাশ করতে পারি, "Эte )