পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৭৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালাস্তর ও পারে দেখা যাচ্ছে নানা আকারের, নানা আয়তনের, জয়তোরণের চুড়া, কিন্তু তাদের কোনোটারই ভিত গাড়া হয় নি বালির উপরে। যখন লুব্ধ মনে তাদের উপরতলার অনুকরণে প্ল্যান আঁকব তখন দেশের সামাজিক চিত্তের মধ্যে নিহিত ভিত্তির রহস্যটা যেন বিচার করি । কিছু দিন হল একটি বিরল-বসতি পাহাড়ে এসে আশ্রয় নিয়েছি। আছি সম্ভ-উন্মথিত রাষ্ট্রক উত্তেজনা থেকে দূরে। অনেক দিন পরে ভারতবর্ষকে এবং আপনাকে শাস্তমনে দেখবার অবকাশ পাওয়া গেল । দেখছি চিস্ত করে, মানবজগতে দুই প্রবল শক্তি নিয়ে পলিটিকসের ব্যবহার। একটার প্রয়োগ বাহিরের দিকে, সেটা যন্ত্রশক্তি ; আরএকটার কাজ মামুষের মন নিয়ে, সেটাকে বলতে পারি মন্ত্রশক্তি । আজ যুরোপের সংকটের দিনে এই দুই শক্তির হিসাব গণনা ক’রে প্রতিদ্বন্দ্বীরা কখনো এগিয়ে কখনো পিছিয়ে পদচারণ করছে। বাহির থেকে একটা কথা আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, এই শক্তির কোনোটাই সহজসাধ্য নয়, অনেক তার দাম, সুদীর্ঘ তার প্রয়োগশিক্ষাচর্চা । বহু কাল ধরে আমরা পরের অধীনে আছি, যন্ত্রশক্তির আঘাত কী রকম তা জানি কিন্তু তার আয়ত্তের উপায় আমাদের স্বপ্নের অগোচর । অত্যাবশ্যক বোধ করলে বাহিরের কোনো পালোয়াল জাতির সঙ্গে দেনা করবার কারবার কেঁদে বন্ধুত্ব পাতানো যেতে পারে । সেটা দেউলে হবার রাস্তা। সে রকম মহাজনরা আজও এই গরিব জাতের আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়ায়। ইতিহাসে দেখা গেছে, প্রবলের সঙ্গে অসমকক্ষের মিতালি খাল কেটে কুমির ডেকে আনা । তাতে কুমিরের পেট ভরে অবিবেচক খাল-কাটিয়ের খরচায় । তা ছাড়া অমঙ্গল-প্রতিরোধের যোগ্য জনমমঃশক্তি বহু কালের অব্যবহারে গিয়েছে মরচে পড়ে। ভরসা হারিয়েছি। কোনো-একটা নেশার বোৰে মরিয়া হয়ে যদি ভরসা বাধি বুকে, তবে সে গিয়ে দাড়াবে ● ге“) о