পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৭৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কনগ্রেস তিতুমীরের বাশের কেল্লায়। এক দিন ছিল যখন সাহস ও বাহুবলের যোগে চলত লড়াই। এখন এসেছে সায়ান্স, শিক্ষিত বুদ্ধির পরে ভর করে। শুধু বুদ্ধি নয়, তার প্রধান সহায় প্রভূত অর্থবল। অথচ আমাদের লড়তে হবে শূন্ত তহবিল এবং এমন জনসংঘ নিয়ে যাদের মন কর্মবিধানে দৃঢ় নয়, যারা অশাসিত— যাদের শক্তি হয় অচেতন হয়ে থাকে নয় অন্ধ হয়ে ছোটে । দেশের পলিটিক্সের আরম্ভ হয়েছিল এই জ্বরূহু সমস্তা নিয়ে। সেইজন্তে প্রথম যুগের নেতারা অগত্যা নেীকে বানিয়েছিলেন দরখাস্তের পার্চ মেন্ট দিয়ে। সেটা দাড়িয়েছিল খেলায়। এই রিক্ততার সমস্ত নিয়েই এক দিন মহাত্মা এসে দাড়ালেন বিপুল শক্তিমান প্রতিদ্বন্দ্বীর সামনে ; দুঃখ সয়েছিলেন, মাখা হেঁট করেন নি। বিনা যন্ত্রশক্তিতে লড়াই যে চলতে পারে এইটে প্রমাণ করতে তার আসা। একটা একটা উপলক্ষ্য নিয়ে তিনি লড়াই শুরু করে দিলেন ; কোনোটাতে যে শেষ পর্যন্ত জিতেছেন তা বলতে পারি নে, কিন্তু পরাভবের মধ্যে দিয়ে জেতবার ভূমিকা স্বষ্টি করছেন। ক্রমে ক্রমে সেই মন তৈরি করছেন যে মন তার সংকল্পিত অস্ত্র যথাযোগ্য ংযম ও সাহসের সঙ্গে ব্যবহার করতে পারে । এই অস্ত্র ছাড়া কেবল যে আমাদেরই উপায়াস্তর নেই তা নয়, সমস্ত পৃথিবীরই এই দশা । হিংস্ৰ যুদ্ধ নিরস্ত ; সে একই কেঙ্গের চারি দিকে ধ্বংসসাধনের ঘুরপাক খাওয়ায়, তার সমাপ্তি সর্বনাশে । হিংস্র যুদ্ধের ফেজ তৈরি করা সহজ, বছরখানেকের কুচকাওয়াজে তাদের চালিয়ে দেওয়া যায় রণক্ষেত্রে । কিন্তু অহিংস্র যুদ্ধে মনকে পাকা করে তুলতে সময় লাগে। অশিক্ষিত লোক নিয়ে ভিড় জমানে অনেক দেখা গেল ; তাদের নিয়ে দক্ষযজ্ঞ ভাঙা চলে, এমন সিদ্ধিলাভ চলে না যা মূল্যবান। এমন কি পাশৰ শক্তির রীতিমতো ধাক্কা খেলে তারা আপনাকে সামলাতে পারে না, ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে ৰায় । ©ግ›