পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৭৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর পৃথিবীতে আজ যে-সব জাতি যে-কোনো রকম লড়াই চালাচ্ছে তাদের সকলেরই জোর সর্বজনীন জনশিক্ষায় । বর্তমান যুগ শিক্ষিত বুদ্ধির যুগ, স্পর্ধিত মাংসপেশীর যুগ নয়। জাপানের তো কথাই নেই — বড়ো বড়ো অন্ত সকল প্রাচ্য জাতিই সর্বত্র জনশিক্ষাসত্র খুলেছেন । আজকের দিনে আমরা দেশের বহু কোটি চোখ-বাধা মোহের বাহন নিয়ে এগোতে পারব না । মহাত্মাজি অসহযোগ আন্দোলন স্থগিত রেখে জনশিক্ষায় মন দিয়েছেন । বোধ করি প্রমাণ পেয়েছেন, ভিড় জমিয়ে অসহযোগ দেখতে দেখতে অসহ্য হয়ে ওঠে । আজকের দিনে কোন জননায়ক পলিটিক্সকে কোন পথে নিয়ে যাবেন তা নিয়ে অনেক আলোচনা চলছে । মনে নানা সংশয় জাগে, স্পষ্ট বুঝতে পারি নে এ-সকল পথযাত্রার পরিণাম । কিন্তু নিশ্চিত বিচার করা আমার পক্ষে কঠিন ; আমি পলিটিক্লে প্রবীণ নই। এ কথা জানি, যারা শক্তিশালী তারা নতুন পথে অসাধ্য সাধন করে থাকেন। মহাত্মাজিই তার প্রমাণ। তবু, তার স্বীকৃত সকল অধ্যবসায়ই চরমতা লাভ করবে এমন কথা শ্রদ্ধেয় নয় । অন্ত কোনো কর্মবীরের মনে নতুন সাধনার প্রেরণা যদি জাগে তা হলে দোহাই পাড়লেও সে বীর হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন না। সেজন্ত হয়তো অভ্যন্ত পথে যুখভ্রষ্ট হয়ে অনভ্যস্ত পথে তাকে দল বাধতে হবে, সে দলের সম্পূর্ণ পরিচয় পেতে ও তাকে আয়ত্ত করতে সময় লাগৰে । কনুগ্রেসের অভিমুখে যদি কোনো কৃতী নূতন পথ খুলতে বেরোন, আমি অনভিজ্ঞ, তার সিদ্ধি কামনা করব, দেখব তার কামনার অভিব্যক্তি— কিন্তু দূরের থেকে । কেননা দেশের জননায়কতার দায়িত্ব অত্যন্ত বৃহৎ ; তার ভালোমনা ফলাফল বহুদূরব্যাপী, অনেক সময়েই তা অভাবনীয়। নিজের উপরে ধার স্থির বিশ্বাস আছে তিনিই তা বহন করতে পারেন, কিন্তু এ সকল পোলিটিক্যাল প্রয়াস আমার পক্ষে স্বাভাবিক ৰ’লে আমি ७१३